পর্যটদের জন্যে আগেকার যুগের রাজপ্রসাদের আনন্দ উপভোগ করার মনোরম পরিবেশে ইটাচুনা রাজবাড়িতে রয়েছে খাওয়া ও রাত্রীযাপনের ব্যবস্থা। রাজকীয় কায়দায় প্রতিদিন আপনি খাবার পাবেন। দুটি করে লুচি সাথে ভাত, ডাল, পোস্ত, সুক্ত, থোড়, মোচা, মাছ-মাংস যা অর্ডার করবেন সামনে তাই হাজির হবেন। তবে প্রতিদিন এক মেনু হয় না।

বাজারে যখন যেটা পাওয়া যায় সেটাই রান্না করার চেষ্টা করা হয়। তবে খাবারের মেন্যুতে আভিজাত্যের ছোঁয়া সর্বদা বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়। ইটাচুনা রাজবাড়িতে থাকতে গেলে আপনাকে মোটামুটি তিন হাজার টাকা খরচ করতে হবে। বিছানা হিসেবে একদিনের জন্য রাজকিয় পালঙ্কে রাত্রিযাপন করতে পারবেন। তবে এর আশেপাশে রয়েছে মাটির বাড়ি যেখানে আপনি রাত্রি বাস করতে পারে। সেখানে ভাড়া অবশ্য খানিকটা কম
ভারতের কলকাতার খুব কাছেই খন্নানের ইটাচুনা রাজবাড়ি। বর্ধমান মেন লাইনে ট্রেনে করে হাওড়া থেকে পান্ডুয়া লোকাল এ আসতে হবে খন্নান স্টেশন এর নেমে অটোরিকশা ধরে কয়েক মিনিটের পথ এই ইটাচুনা রাজবাড়ী।
ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায় ইটাচুনা রাজবাড়ীর জন্মের কাহিনী। এই রাজবাড়ির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন কুন্দ্রারা। এই কোন জায়গায় পরবর্তীকালে কুন্ডু পদবি ধারণ করেন। ১৭৬৬ খ্রিস্টাব্দে সাফল্য নারায়ন কুন্ডুর বংশধররা ইটাচুনা রাজবাড়ির প্রতিষ্ঠা করেন। রাজবাড়ীর বিশাল ফটক পেরিয়ে বিশাল প্রাসাদোপম ইমারত আপনাকে টেনে নিয়ে যাবে এই বাড়ির অন্দরমহলে।

রাজপ্রাসাদের দেওয়ালে হাত বোলালে কিংবা কান পাতলে শুনতে পাবেন ইতিহাসের কাহিনী। প্রাসাদোপম রাজবাড়ী কোনায় কোনায় দেখা যায় প্রাচীনত্ব এর ছোঁয়া। চোখ তুলে অপর দিকে তাকালেই চোখে পড়বে কড়ি বরোগার ছাদ, প্রাসাদের সামনে বিশাল উঠোন জুড়ে রয়েছে বাতিস্তম্ভ। তবে রাজপ্রাসাদের অন্দরমহল এবং বাহিরমহল সম্পূর্ণই আলাদা রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে কাছারিবাড়ি, বাজার সরকারের ঘর, হিসাবের ঘর ইত্যাদি।

এত সুন্দর প্রাসাদোপম প্রেক্ষাপটকে কাজে লাগিয়েছিলেন লুটেরা ছবির পরিচালক। এইখানে সোনাক্ষী সিং এবং রণবীর সিংয়ের জুটিতে প্রাসাদোপম বাড়িটিকে কাজে লাগানো হয়েছিল। সন্ধ্যা হলেই এই বাড়ি থেকে শুনতে পাওয়া যায় ঘণ্টাধ্বনি। ঠাকুরদালানে জ্বলে ওঠে ঝাড়বাতি। শুধু তাই নয়, পাশের বাঁশুরিয়া গ্রাম থেকে এক বাঁশিওয়ালা রোজ আসেন এই রাজবাড়ীতে বাঁশি বাজাতে।













