ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ
ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ঝালকাঠি সদর উপজেলার ছত্রকান্দা এলাকায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪জনকে ৫লাখ টাকা করে ২০ লাখ টাকা প্রদান করা হয়েছে। ইতিপূর্বে আরও ১০জনকে ৫০লাখ টাকা প্রদান করা হয়েছে। গত ২২ জুলাই ২০২৩ তারিখ শনিবার সকাল ১০ টায় ঝালকাঠি সদর উপজেলায় বরিশাল-খুলনা আঞ্চলিক মহাসড়কে গাবখান ধানসিড়ি ইউনিয়ন পরিষদ সামনে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পার্শ্ববর্তী একটি পুকুরে পড়ে গেলে ১৭জন নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে ১৪জন ঝালকাঠি জেলার বাসিন্দা অন্য ৩জন বরগুনা জেলার বাসিন্দা ছিল এবং তাদেরও স্ব স্ব উপজেলা মাধ্যমে এই ক্ষতিপূরণের অর্থ প্রদান করা হয়েছে।
ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক আশরাফুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ৫লাখ টাকা করে চেক ৪টি পরিবারের নিকট আত্মীয়ের কাছে হস্তান্তর করেছেন। নিহত মোসাঃ খাদিজা বেগমের পক্ষে তার পুত্র রহমত উল্লাহ, মোসাঃ খুসবু আক্তারের পক্ষে তার ভাই রহমত উল্লাহ চেক গ্রহণ করেছেন। এছাড়াও রুহুল আমিনের পক্ষে তার মেয়ে পারুল বেগম এবং তারেক হোসেনের পক্ষে তার পিতা শাহ আলম বেপারী চেক গ্রহণ করেছেন।
জেলা প্রশাসক আবারও সতর্ক করে দেন আমাদের আশে পাশে প্রতি নিয়ত দূর্ঘটনা ঘটে এই সকল ঘটনায় যারা প্রাণ হারায় তাদেরকে সরকার ক্ষতিপূরণবাবদ ৫লাখ টাকা এবং দূর্ঘটনায় আহত হয়ে অঙ্গ হানি হলে ৩লাখ টাকা এবং অন্যক্ষেত্রে আহত ঘটনায় চিকিৎসার জন্য ১লাখ টাকা প্রদান করে আসছে। বিআরটিএর কার্যালয়ে ক্ষতিপূরণের আবেদনের জন্য ফরম সংগ্রহ করে ফিলাপ করে সংশ্লিষ্ট জেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের কাছে আবেদন করতে হবে এবং এই আবেদন ঘটনার ১মাসের মধ্যে করতে হবে অন্যথায় এই আর্থিক সহযোগিতা পাওয়া যাবে না। আমাদের দেশে অনেক মানুষ অসচেতনাতার কারণে সরকারের এই সহযোগিতা নিতে ব্যর্থ হচ্ছেন।
প্রকাশ থাকে যে বিগত
ঝালকাঠিতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নারী ও শিশুসহ ১৭জন নিহত হয়েছে, আহত হয়েছে ৩০/৩২জন। আহতদের ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল ভর্তি করা হয়েছে ও কয়েকজনকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৭জন শিশু ও ৪জন নারী রয়েছে।
শনিবার সকাল ১০ টায় ঝালকাঠি সদর উপজেলায় বরিশাল-খুলনা আঞ্চলিক মহাসড়কে গাবখান ধানসিড়ি ইউনিয়ন পরিষদ সামনে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পার্শ্ববর্তী একটি পুকুরে পড়ে যায়। বাসটি পুকুরের পানিতে সম্পূর্ণ ডুবে যাওয়ায় নিহতরা পানিতে ডুবেই মারা গেছেন বলে ধারনা করা হচ্ছে। আহত প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, চালক গাড়ি চালানো সময় সাইড টক করছিলেন। বাসটি পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া থেকে বরিশাল যাচ্ছিল।
দূর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছিল। এ সময় মোঃ আল আমীন (২৬) নামে ফায়ার ফাইটার উদ্ধারকারী আহত হয়েছে। নিহতদের সবার পরিচয় এখন পর্যন্ত জানা যায় নি। তবে নিহতদের মধ্যে তারিক (৫৫), একই এলাকার আঃ ছালাম মোল্লা (৫০), শাহীন মোল্লা (৩০), আব্দুল্লাহ (৭) পূর্ব ভান্ডারিয়া এলাকার সুমাইয়া (৫) নিহত হয়েছেন। যাত্রী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৭০জন যাত্রী নিয়ে বাসটি সকাল ৯ টায় ভান্ডারিয়া বাসস্টান্ড থেকে ছেড়ে আসে। খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক ফারাহ্্ গুল নিঝুম, সিভিল সার্জন ডাঃ এইচ এম জহিরুল ইসলাম ও পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল সহ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন।










