এক তরুণীর দুই স্বামী। গোপনে দুই স্বামীর সংসার করতে গিয়ে পলেন বিপত্তিতে। এ ঘটনা ফাঁস হওয়ায় ব্যাপক সংঘাতের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনা ঘটেছে ঢাকার ধামরাই উপজেলায়। ওই তরুণীর নাম ফাতেমা আক্তার (১৬)।
২৭ ফেব্রুয়ারি সোমবার কাওয়ালীপাড়া বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই মো. ফয়েজ আহাম্মেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে ২৬ ফেব্রুয়ারি রবিবার সন্ধ্যায় এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘাতের সৃষ্টি হয়। এ সময় অভিযুক্ত তরুণীর প্রথম স্বামী ও তার সহযোগীকে দ্বিতীয় স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন ঘরের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রেখে অমানুষিক নির্যাতন করেছে। পরে সংবাদ পেয়ে পুলিশ ও গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ইমাম আলী ঘটনাস্থলে এসে অভিযুক্ত তরুণীর প্রথম স্বামী ড্রেজার মেশিনের ড্রাইভার মো. হিমেল আহাম্মেদ ও তার সহযোগী মো. আলমগীর হোসেনকে রক্ষা করেন। পরে এ ঘটনায় পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা গুনলেও শেষমেশ প্রথম স্বামীই ওই তরুণীকে স্ত্রী হিসেবে পেয়েছেন।
স্বামীরা হলেন, পূর্বের স্বামী মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া থানার বাছট গ্রামের হিমেল আহাম্মেদ (২৪) ও বর্তমান স্বামী কাওয়াখোলা গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে কাজল (২২)।
জানা জায়, প্রথম স্বামীকে তালাক না দিয়েই অভিযুক্ত তরুণী মা-বাবার কথামতো কাজলকে রেজিস্ট্রির মাধ্যমে বিয়ে করে। পরে ওই তরুণী একই সঙ্গে দুই স্বামীর সঙ্গে সমানতালে ঘর-সংসার করতে থাকে। বিষয়টি দুই স্বামীর একজনও জানতেন না। প্রথম স্বামীর কাছে খালার বাড়িতে বেড়ানোর কথা বলে দ্বিতীয় স্বামীর সংসারে চলে আসেন ওই তরুণী। নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় অতিবাহিত হলে প্রথম স্বামী হিমেল আহাম্মেদ কুশুরা ইউনিয়নের পানকাত্তা গ্রামের বাসিন্দা আলমগীর হোসেনকে (২২) সঙ্গে নিয়ে রবিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ওই তরুণীর দ্বিতীয় স্বামীর বাড়িতে যান। এরপর দ্বিতীয় স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনসহ প্রতিবেশীরা এসে তাদের ঘরের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করে।
এদিকে ওই তরুণীর ইচ্ছানুযায়ী প্রথম স্বামীর হাতেই তাকে তুলে দেওয়া হয়। কিন্তু প্রথম স্বামীকে নগদ পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা গুনতে হয়।
এ বিষয়ে ওই তরুণী জানান, ‘ভালোবেসে হিমেলকে বিয়ে করে সুখে স্বাচ্ছন্দ্যে ঘর সংসার শুরু করি। কিন্তু আমার মা-বাবা মোটেও খুশি হতে পারেননি। এমনকি তারা আমাদের বিয়ে মেনেও নেয়নি। পরে তারা সমস্ত তথ্য গোপন করে, তালাক না করেই কাজলের সঙ্গে আমাকে দ্বিতীয় বিয়ে দেন।’
এ বিষয়ে প্রথম স্বামী হিমেল আহাম্মেদ জানান, আমার স্ত্রী আমাকে অনেক ভালোবাসে বলেই এসব ঘটনা জানার পরও তাকে মেনে নিলাম।
দ্বিতীয় স্বামী মো. কাজল জানান, ‘আমি বিষয়টি আগে মোটেও জানতাম না। জানলে আরেকজনের বউকে বিয়ে করতাম না।’
এসআই ফয়েজ আহাম্মেদ জানান, রবিবার সন্ধ্যায় এ ঘটনার খবর পেয়ে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ করি। জনপ্রতিনিধিরা প্রথম স্বামীর কাছেই তুলে দিয়েছেন ওই তরুণীকে।
এ বিষয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ইমাম আলী জানান, প্রথম স্বামীকে তালাক না দিয়ে দ্বিতীয় বিয়ের কোনো বৈধতা নেই। ওই তরুণী ও তার বাবা-মা যা করেছেন তার সবই অন্যায় ও ভুল। এ ছাড়া প্রথম স্বামীর সংসারে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করলে ওই তরুণীকে তার প্রথম স্বামীর হাতেই তুলে দেওয়া হয়।










