খুলনা প্রতিনিধিঃ
খুলনায় এক নারীকে বিবস্ত্র করে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। পরে জরুরি সেবা নম্বরে (৯৯৯) কল পেয়ে প্রায় এক ঘণ্টা পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। ১১ জুলাই (সোমবার) সকালে এ ঘটনা ঘটে। শুক্রবার (১৫ জুলাই) সকালে বিষয়টি জানাজানি হয়।
ঘটনার শিকার ওই নারী বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
হাসপাতালে ওই নারীর স্বামী বলেন, ‘ঘটনার এক দিন পর তার স্ত্রীর জ্ঞান ফেরে। তবে ১০ থেকে ১৫ মিনিট তা স্থায়ী হওয়ার পর আবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। জ্ঞান ফেরার পর অসংলগ্ন কথা বলছিলেন। বারবার বলছিলেন, ‘আমাকে মেরো না।’
জানা গেছে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ওই নারীর চাচা, চাচাতো ভাইসহ কয়েকজন তাকে মারধর করেছেন। ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ শিকারী পুলিশের সহায়তায় ব্যাপারটি মীমাংসা করার চেষ্টা করছেন। শনিবার (১৬ জুলাই) কয়রা থানায় দুই পক্ষের বসার কথা রয়েছে।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওই ওয়ার্ডের ইন্টার্ন চিকিৎসক তারেক আহমেদ বৃহস্পতিবার সকালে সাংবাদিকদের জানান, রোগীর বর্তমান অবস্থা কিছুটা ভালো। মাথায় আঘাত ও বমি হওয়ায় খারাপ কিছু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। তবে সিটিস্ক্যানের রিপোর্ট মোটামুটি ভালো। তিনি এখন শঙ্কামুক্ত।
ওই নারীর শ্বশুরবাড়ি ও বাবার বাড়ি একই এলাকায়। তবে ঘটনাটি ঘটেছে বাবার বাড়িতে। এলাকাবাসী ও ওই নারীর আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পারিবারিক জমি নিয়ে ওই নারীর বাবা ও চাচাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে। বর্তমানে সেটি আদালতে বিচারাধীন। ১১ জুলাই ওই নারীর চাচা, চাচাতো ভাইসহ ২৫ থেকে ৩০ জন লোক ওই নারীর বাবার জমিতে ঘর তুলতে আসেন। এ সময় ওই নারী তাদের বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তার চাচাতো ভাইয়েরা তাকে মারধর করতে করতে বিবস্ত্র করে ফেলেন। পরে তাকে বাড়ি থেকে বের করে সড়কের পাশের একটি মেহগনিগাছের সঙ্গে বেঁধে রাখেন। প্রায় এক ঘণ্টা এভাবে নির্যাতন চলতে থাকে।
পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে ওই নারীকে উদ্ধার করে আত্মীয়স্বজনের কাছে হস্তান্তর করে।
ওই নারীর বাবা বলেন, ‘ঘটনার পর কয়রা থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মাসুদুর রহমান তাকে মুঠোফোনে কল করে শনিবার বিকালে থানায় দুই পক্ষের লোকজন নিয়ে বসে ব্যাপারটি মীমাংসা করার কথা বলেছেন। এছাড়া বৃহস্পতিবার (১৪ জুলাই) বিকালে মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের এক গ্রাম পুলিশ এসে জানিয়ে গেছে, চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ শিকারী শুক্রবার (১৫ জুলাই) বিকালে ব্যাপারটি নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে দুই পক্ষকে নিয়ে বসবেন। কিন্তু গ্রাম পুলিশের ওই নোটিশ তারা ফিরিয়ে দিয়েছেন। তারা এত দিন মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে দৌড়াদৌড়ি করেছেন বলে মামলা করার সময় পাননি।
মীমাংসার বিষয়ে জানতে চাইলে এএসআই মাসুদুর রহমান জানান, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নির্দেশে তারা সেখানে গিয়ে ওই নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। পরে মহেশ্বরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মুঠোফোনে কল করে ব্যাপারটি নিয়ে থানায় বসে মীমাংসা করার কথা বলেন। সেটিই মুঠোফোনে কল করে ওই নারীর বাবাকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল।’
অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মহেশ্বরীপুর ইউপির চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ শিকারী। তিনি দাবি করেন, ‘মীমাংসা করার ব্যাপারে কারও সঙ্গে কোনো কথা হয়নি। কেউ কোনো প্রমাণ দেখাতে পারবে না। ওই নারীর বাবা আমার বিপক্ষে কাজ করেছিলেন, এ কারণে তারা মিথ্যা অভিযোগ করছেন।’
কয়রা থানার পরিদর্শক তদন্ত মো. ইব্রাহিম আলী বলেন, ‘৯৯৯ থেকে কল পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। পুলিশ গিয়ে ওই নারীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। ওই নারীর বাবাকে মুঠোফোনে কল করে থানায় অভিযোগ দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে, কিন্তু তিনি থানায় আসেননি। যেহেতু এটা অপরাধ, তাই এ ব্যাপারে থানায় বসে মীমাংসা করার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। অভিযোগ পেলে আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’










