পাকিস্তানে অন্যতম জনপ্রিয় নেতা ইমরান খানকে জেলে রেখে এবং ভোট পূর্ববর্তী নানান অনিয়মের অভিযোগের মধ্যেই পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে সাধারণ নির্বাচন। বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮ টা থেকে শুরু হয় এই ভোট গ্রহণ চলবে বিকাল ৫টা পর্যন্ত।
ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের নেতাকর্মীদের ওপর সামরিক বাহিনীর মদদপুষ্ট সরকারের দমন-পীড়নের কারণে নির্বাচনি প্রচারণার পর ১২ কোটি ৮০ লাখ ভোটারের ভোট দেওয়ার কথা থাকলেও ভোটার উপস্থিতি বেশ কম হবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। খবর এএফপির।
আজকের নির্বাচনে পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) অধিকাংশ আসন পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেনাবাহিনীর পদস্থ কর্মকর্তাদের আশীর্বাদ নিয়েই ৭৪ বছর বয়সী নওয়াজ শরীফ জয়লাভ করতে যাচ্ছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলেছে, সহিংসতা এই নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলবে না। পাকিস্তানের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার-উল-হক কাকর বলেছেন, সংঘাত সৃষ্টির যেকোনো প্রচেষ্টাকে নস্যাৎ করে দেওয়া হবে।
জনপ্রিয় ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা ইমরান খানকে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রায় দুই বছর পর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৭ হাজার ৮১৬ জন প্রতিনিধি। আর দেশটিতে মোট ভোটারের সংখ্যা ১২ লাখ ৮০ হাজার। বিপুল সংখ্যক জনগণের ভোট গ্রহণে পাকিস্তানজুড়ে ৯০ হাজার ৬৭৫টি ভোটকেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে। এর মধ্যে সাড়ে ২৭ হাজারের বেশি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ এবং প্রায় সাড়ে ১৮ হাজার কেন্দ্রকে অতিঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করা হয়েছে।
ভোট চলাকালে নিরাপত্তা নিশ্চিতে মোতায়েন আছে সেনাবাহিনী, আধা সামরিক বাহিনী এবং পুলিশের ৫০ হাজার সদস্য। সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে ভোটকেন্দ্রের ৪০০ মিটারের মধ্যে প্রার্থী এবং রাজনৈতিক কর্মীদের অবস্থান না করার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে আজ বৃহস্পতিবার ইরান ও আফগানিস্তানের সঙ্গে দেশটির সীমান্ত বন্ধ রাখা হবে।
নির্বাচন বিশ্লেষণ বিষয়ক সংগঠন গ্যালপ পাকিস্তানের নির্বাহী পরিচালক বিলাল জিলানি বলেন, পাকিস্তানের নির্বাচনের ইতিহাস ভোট কারচুপি ও রাজনৈতিক দলের প্রতি পক্ষপাতের অভিযোগে পূর্ণ। ২০১৮ সালেও এরকম ঘটনা ঘটেছিল। এটা এক ধরনের ‘ম্যানেজ করা গণতন্ত্র’, যা সামরিক বাহিনী চালায়।
এবারের নির্বাচনে এগিয়ে আছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) ও বিলাওয়াল ভুট্টোর নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি)।
এই নির্বাচনে পিটিআইয়ের নির্বাচনি প্রতীক (ক্রিকেট ব্যাট) বাতিল করা হয়। পাশাপাশি ব্যালট পেপার থেকেও তাদের প্রতীক সরিয়ে ফেলা হয়। দলটির নেতাদের বাধ্য করা হয় স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে দাঁড়াতে। এছাড়া পিটিআই প্রধান সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে রাষ্ট্রদ্রোহ, দুর্নীতি ও অবৈধভাবে বিয়ে করার জন্য দীর্ঘ মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
নির্বাচন বিশ্লেষকরা বলছেন, উত্থান-পতনের রাজনীতিতে জর্জরিত দেশটির সাধারণ মানুষের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে তৈরি হয়েছে নিস্পৃহ ভাব। রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত এই দেশটির অর্থনীতি এখন ভঙ্গুরপ্রায়।












