জনতার খবর ডেস্কঃ রাষ্ট্রপতি মো.আবদুল হামিদ বলেছেন, হাওরে আর মাটির রাস্তা হবে না। ভবিষ্যতে হাওরে ফ্লাইওভার সিস্টেমে রাস্তা হবে। ১৫ নভেম্বর সোমবার সন্ধ্যায় ইটনায় রাষ্ট্রপতি মো.আবদুল হামিদ অডিটরিয়ামে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে মতবিনিময়কালে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শুণ্য হাতে সাড়ে তিন বছর দেশ পরিচালনা করেছেন। এই স্বল্প সময়ে তিনি প্রত্যেক জায়গাতেই হাত লাগিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। ২০৪১ সালের মধ্যে আমাদের ধনী রাষ্ট্রে পরিণত করতে সবাইকে চেষ্টা করতে হবে।
তিনি বলেন, ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম উপজেলায় অলওয়েদার (আভুরা) সড়ক হওয়ায় মানুষদের আর দাওয়াত দেওয়া লাগে না এমনিতেই এসে যায়। সচিব পর্যায়ের লোকজনদের তেল দিয়েও হাওরে আগে আনা যেত না, এখন বিচারপতিরাও সপরিবারে হাওরে বেড়াতে আসেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, হাওরে বৈশাখ-জৈষ্ঠ মাসে নিষিদ্ধ জাল দিয়ে ছোট-ছোট মাছ ধরা হয়। তা কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। বিদ্যমান আইন বাস্তবায়ন করতে হবে।
তিনি বলেন, আমি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জনের সাথে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি, কিন্তু কারো সাথে খারাপ সম্পর্ক তৈরি হয়নি। সবাই আমার কাছে আসে। একমাত্র ফজলুর রহমান (বর্তমানে বিএনপি নেতা) আসেননি।
স্বল্প পরিসরে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় যারা উপস্থিত হয়েছেন তাদের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতি বলেন, ইটনা উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের মানুষ করোনা মহামারির কারণে যারা এ মতবিনিময় সভায় আসতে পারেননি তাদের কাছে আমার সালাম পৌঁছাতে হবে।
মতবিনিময় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ সরকারি কলেজের প্রভাষক মো. জসিম উদ্দিন, চৌগাঙ্গা শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. খলিলুর রহমান, ইটনা উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার নজরুল ইসলাম ঠাকুর, রায়টুটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন খান, বাদলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল গণি ভুঞা প্রমুখ।
এসময় কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. আফজাল হোসেন, রাষ্ট্রপতির জ্যৈষ্ঠ পুত্র কিশোরগঞ্জ-৫ (ইটনা-মিটামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিফ, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম, পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ, ইটনা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান চৌধুরী কামরুল হাসানসহ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সাতদিনের সফরের চতুর্থ দিনে রাষ্ট্রপতি বিকেলে ইটনায় আসেন। এরপর রাষ্ট্রপতি ইটনায় উপজেলা পরিষদের নিমার্ণাধীন সম্প্রসারিত প্রশাসনিক ভবন, সড়কদ্বীপ সজ্জিতকরণ কাজসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ পরিদর্শন করেন।
রাতে মিঠামইনের কামালপুরে রাত্রিযাপন করে মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে হেলিকপ্টারযোগে রাষ্ট্রপতি কিশোরগঞ্জ শহরের খড়মপট্টির বাসভবনে পৌঁছাবেন। সেখানে তিনি রাত কাটিয়ে বুধবার মাগরিবের পর রাষ্ট্রপতি কিশোরগঞ্জ শহরের শিল্পকলা একাডেমিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে মতবিনিময় করবেন। পরদিন ১৮ নভেম্বর বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে কিশোরগঞ্জ থেকে হেলিকপ্টারযোগে রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবেন বলে জানা গেছে।
সূত্রঃ একাত্তর টিভি।












