জনতার খবর ডেস্কঃ দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিবহন মালিকদের দাবির মুখে বাড়লো বাস ভাড়া। ৭ নভেম্বর রোববার দুপুরে রাজধানীর বনানীতে বিআরটিএ কার্যালয়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রেক্ষাপটে গণপরিবহনে ভাড়া পুনর্নির্ধারণে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সঙ্গে বৈঠক বসেন পরিবহন মালিক সমিতির নেতারা। বৈঠক শেষে বাস ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিআরটিএ। ডিজেলের দাম ২৩ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় গড়ে ৪০ শতাংশের বেশি বাস ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে সড়ক পরিবহন মালিকেরা।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, আলোচনা শেষে বাসের নতুন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে দূরপাল্লার বাসে ১ দশমিক ৯০ টাকা, মহানগর বাসে ২ দশমিক ৩৫ টাকা এবং মিনিবাসে ২ দশমিক ৩৫ টাকা। তবে পরিবহন মালিক সমিতি ২ টাকা করার প্রস্তাব করে। যদিও দূরপাল্লার বর্তমান বাসভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১ টাকা ৪২ পয়সা। অর্থাৎ এতে কিলোমিটারপ্রতি যাত্রীকে বাড়তি ৪৮ পয়সা বেশি গুনতে হবে।
এছাড়া মহানগরে বাসভাড়া ২ দশমিক ৩৫ টাকা করার প্রস্তাব গৃহীত হয়। যার বর্তমান ভাড়া কিলোমিটারে ১ টাকা ৭০ পয়সা। যদিও প্রস্তাব করা হয়েছিল ২ টাকা ৪০ পয়সা করার। এতে ভাড়া বাড়ছে ৬৫ পয়সা। মহানগরে মিনিবাসের ভাড়া ২ দশমিক ৩৫ টাকা করার কথা বলা হয়। যার বর্তমান ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১ টাকা ৬০ পয়সা। এটি বাড়িয়ে ২ টাকা ৪০ পয়সা করার প্রস্তাব হলেও তার ৫ পয়সা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়। এতে ভাড়া বাড়লো কিলোমিটারপ্রতি ৭৫ পয়সা। প্রস্তাবিত ভাড়া বিআরটিএ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর তা আগামীকাল সোমবার থেকে কার্যকর হবে বলে জানা গেছে।
এর আগে গত বুধবার রাতে ডিজেলের দাম ১৫ টাকা বা ২৩ শতাংশ বাড়িয়ে ৮০ টাকা নির্ধারণ করে জ্বালানি বিভাগ। বৃহস্পতিবার সকালেই পণ্যবাহী গাড়ির মালিক-শ্রমিকদের সংগঠন ধর্মঘটে যাওয়ার ডাক দেয়। জেলায় জেলায় বাস না চালানোর ঘোষণাও দেয়া হয়। কেন্দ্রীয়ভাবে বাস মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতি বিআরটিএর কাছে ভাড়া যৌক্তিক হারে বাড়াতে আবেদন করে। সে আবেদনে লেখা ছিল, জেলায় জেলায় বাসমালিকরা বলছেন, বিদ্যমান ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন করলে তাদের লোকসান হবে। তাই তারা বাস চালাবেন না।
বাস ও পণ্যবাহী যানবাহনের পাশাপাশি ভাড়া বাড়ানোর দাবিতে শনিবার ধর্মঘটের ডাক দেন লঞ্চ মালিকেরাও। এতে দেশজুড়ে বিপাকে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।












