আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের মির্জাপুর। বিনোদন জগতের সংগে মোটামুটি পরিচিতদের এই নামটি জানার কথা। দুর্ধর্ষ সন্ত্রাস, খুন, রাহাজানিকে মির্জাপুরের নিয়মিত ঘটনা হিসেবে তুলে ধরা ওয়েব সিরিজের দুই সিজনই তুমুল জনপ্রিয়তা পায়। ওয়েব সিরিজের মতো পিলে চমকানো ঘটনা এবার বাস্তবে ঘটলো মির্জাপুরে।
ঘটনা ঘটিয়েছেন এক স্কুলের অধ্যক্ষ। দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রের পা ধরে তিনি ঝুলিয়ে ধরে রাখলেন স্কুলের সর্বোচ্চ তলার বারান্দা থেকে। আনন্দবাজার জানিয়েছে, ওই ছাত্র দুষ্টু ছিলো। তাকে ‘উচিত শিক্ষা’ দেওয়ার জন্য অন্যরকম শাস্তি দিতে চেয়েছিলেন অধ্যক্ষ।

কিন্তু এই ঘটনার জন্য শাস্তি পাচ্ছেন সেই শিক্ষক। শিশুর বিরুদ্ধে অপরাধ আইনে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁকে। একটি ভিডিও প্রকাশ পাওয়ার পর ওই ঘটনা নিয়ে শোরগোল পড়ে যায়। ওই স্কুলের বারান্দা থেকে ভিডিওটি ধারণ করা হয়। তাতে দেখা যাচ্ছে, স্কুলের এক কমবয়সী ছাত্রের একটি পা ধরে খোলা বারান্দা থেকে শূন্যে ঝুলিয়ে দিয়েছেন শিক্ষক। পা উপরে, মাথা নিচে থাকা অবস্থায় ছাত্রটি দু’হাত ছড়িয়ে বাঁচার চেষ্টা করছে। স্কুলের বারান্দায় ভয়ঙ্কর ঘটনাটি চারপাশে ভীড় করে দেখছে ওই ছাত্রের সতীর্থরা। কিন্তু শিক্ষকের তাতে ভ্রুক্ষেপ নেই। বরং তিনি হুমকি দিচ্ছেন, ক্ষমা না চাইলে মাটিতে ফেলে দেবেন।
ভিডিও নজরে এলে উত্তরপ্রদেশের জেলা প্রশাসন স্বতঃপ্রণোদিত ঘটনার তদন্ত শুরু করে। শুক্রবার সেই তদন্তের পর অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে জানা গেছে, উত্তরপ্রদেশের মির্জাপুরের আহরৌরার ওই বেসরকারি স্কুলের নাম সদ্ভাবনা শিক্ষা সংস্থান জুনিয়র হাই স্কুল। ২৯ অক্টোবর শুক্রবার ওই স্কুলের অধ্যক্ষ মনোজ বিশ্বকর্মাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে শিশু আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র সোনু যাদব টিফিনের সময় এক সহপাঠীকে কামড়ে দিয়েছিলো। এই কারণেই সোনুকে ওই ‘শাস্তি’ দেন মনোজ।
যদিও ছাত্রটির বাবা-মা বিষয়টিকে ততটা গুরুত্ব দিচ্ছেন না। তাঁরা বলেছেন, গুরুজি যা করেছেন তা ভুল হতে পারে। কিন্তু তিনি আসলে ভালবেসেই এমন শাস্তি দিয়েছেন। এতে উপকারই হবে। সোনু’র বাবা-মায়ের যুক্তি, ছেলে অত্যন্ত দুষ্টু বলে তাঁরাই শিক্ষককে অনুরোধ করেছিলেন তাকে শিক্ষা দিতে। প্রধান শিক্ষক সেই কাজই করেছেন।












