ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ
ঝালকাঠি সদর উপজেলার দিবাকরকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা প্রতিবন্ধী লায়জু আক্তারের সেচ্ছায় অবসরে যাওয়া নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি করছে শিক্ষা অফিস। তবে সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মঈনুল ইসলামের দাবি সেচ্ছায় অবসরে যেতে যেসব কাগজপত্র অফিসে জমা দিতে হবে, তা দিতে পারেনি ওই শিক্ষক। সঠিক কাগজপত্র জমা দিলে জটিলতা কেটে যাবে বলেও জানান তিনি।
জানা যায়, দিবাকরকাঠি গ্রামের মৃত মোকছেদ আলী মিয়ার মেয়ে লায়জু আক্তার একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী। ১৯৮০ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহ করে অকৃতকার্য হয়। পরবর্তীতে ১৯৮১ সালে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়। ১৯৮৩ সালে তৎকালীন শিক্ষা মন্ত্রীর আদেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা পদে যোগদান করেন লায়জু। দীর্ঘ ৩৮ বছর চাকরি করার পরে তিনি শারীরিক অক্ষমতার জন্য সেচ্ছায় অবসরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
এ ব্যাপারে তিনি শিক্ষা অফিসে কাগজপত্র জমা দিতে এসএসসি পাশের সনদপত্রের বিষয়টি সনাক্তকরণের জন্য যশোর শিক্ষা বোর্ডে যোগাযোগ করেন। বোর্ড কর্তৃপক্ষ ভুলবসত তাহাকে ১৯৮০ সনের সনদপত্র প্রদান করে।
পরবর্তীতে যাচাই বাছাই করে যশোর শিক্ষা বোর্ড সংশোধন পূর্বক ১৯৮১ সালে এসএসসি পাশ করা সনদপত্র প্রদান করেন। সেই সাথে সনদ শনাক্ত করে ভেরিফাইড কপিও প্রদান করেন। সব কাজপত্র গুছিয়ে তিনি সেচ্ছায় অবসরে যাওয়ার জন্য সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসে আবেদন করেন।
৪০ বছর আগে কম্পিউটারের প্রচলন না থাকায় শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ সনদপত্র হাতে লেখায় সমৃদ্ধ ছিল। লায়জু আক্তারের সনদপত্রে এসএসসি পাসের সন ১৯৮১ এর পরিবর্তে ১৯৮০ সন উল্লেখ করায় শিক্ষা অফিসে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। অবশ্য যশোর শিক্ষা বোর্ড লায়জু আক্তারকে ন্যায় সঙ্গত ১৯৮১ সনের সনদপত্র প্রদান করে বিষয়টি নিস্পত্তি করে দেন। লায়জু আক্তার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা পদে যোগদান করার পরে বরিশাল পিটিআই ট্রেনিং ইনস্টিটিউট থেকে কোর্স সম্পন্ন করেন। বরিশাল পিটিআই ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ৩৮-৪০ বছরের কোন রেকর্ড সংরক্ষিত না থাকার কারণে পরবর্তীতে একমাত্র বোর্ড ময়মনসিংহ গিয়ে বিষয়টি শনাক্ত করেন। ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরিচালক সংশ্লিষ্ট ঝালকাঠি জেলা শিক্ষা অফিসকে অবগত করেন।
লায়জু আক্তার বলেন, আমি অসহায় এক প্রতিবন্ধী নারী। এখন চলাফেরাও করতে পারিনা। শারিরিক অসুস্থতার কারণে দুই মাস আগে আমি সেচ্ছায় অবসরে যাওয়ার আবেদন করি। কিন্তু শিক্ষা অফিসের জটিতলার কারনে আমার এ প্রক্রিয়া আটকে আছে। আমি পেনশন ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা পাওয়ার জন্য শিক্ষামন্ত্রীসহ প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।
এ ব্যাপারে ঝালকাঠি সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম বলেন, আমাদের কাছে সব কাগজপত্র এখনো জমা দেয়নি ওই শিক্ষিকা। সঠিকভাবে কাগজপত্র জমা দিলে সেচ্ছায় অবসরে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।










