ঝালকাঠি প্রতিনিধি
ঝালকাঠিতে বিপুল পরিমান সম্পদ গড়েছেন এনটিএমসি’র সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব:) জিয়াউল হাসান। ঝালকাঠি সদর উপজেলার শেখেরহাট ইউনিয়নের সন্তান জিয়াউল হাসান। তিনি সরকার পতনের পর ঢাকায় গ্রেফতার হয়েছেন।
মাল্টি পারপাস এগ্রো ফার্মের নামে বিশাল এলাকা জুড়ে শেখেরহাটের প্রতাপপুর গ্রামে করেছেন মাছের ঘের, গরুর খামার, নাসার্রী ও বিলাসবহুল বাংলো। এছাড়া প্রায় তিনশো বিঘা জমি কিনেছেন একই ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে। জমি কেনার ক্ষেত্রে করেছেন জোর জবরদস্তিও। জিয়াউল হাসানের লোক দ্বারা নির্যাতিত হয়েছেনও অনেকে। এতদিন ভয়ে কিছু না বললেও এখন মুখ খুলতে শুরু করেছেন এলাকাবাসী। বিচার দাবি করেছেন এই সাবেক সেনা কর্মকর্তার।
ঝালকাঠি সদর উপজেলার শেখেরহাট ইউনিয়নের সন্তান এনটিএমসি’র সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব:) জিয়াউল হাসান। এলাকায় সকলে তাকে তপু মিয়া নামে বেশি চেনে। আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ন পদে থাকাকালীন সময়ে এই তপু মিয়া (ািজয়াউল হাসান) এলাকায় মালিক হয়েছেন বিপুল পরিমান সম্পদের।
এলাকাবাসী জানান, প্রতাপপুর গ্রামে তার তাসফিয়া মালটিপারপাস এগ্রো ফার্মে ১৫ বিঘাসহ ইউনিয়নের বংকুরা ও কতুবকাঠি মৌজায় কমপক্ষে ২৮৫ বিঘা জমিসহ মোট ৩০০ বিঘা জমি রয়েছে। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬০ কোটি টাকা। এছাড়া প্রতাপপুরে জিয়াউল হাসানের এগ্রো ফার্মে ৬টি মাছের ঘের (পুকুর), গরুর ফার্ম, নার্সারী ও বিলাসবহুল
বাংলো রয়েছে। গত ৫ আগষ্ট ছাত্র-জনতার গনঅভ্যুন্থানের পরে এই ফার্মে দায়িত্বরতরা মুল গেটে তালা দিয়ে পালিয়ে যায়। সরেজমিন প্রতাপুরে গেলে এলাকাবাসী জানায় জিয়ার যেসব সহযোগিরা এতদিন এলাকাবাসীকে নানাভাবে হয়রানী ও নির্যাতন করতো ৫ আগষ্টের পরে তারা পালিয়ে গেছে।
এলাকার দোকানগুলোর বকেয়া টাকাও এরা পরিশোধ করেনি। জিয়ার এগ্রো ফার্মের আশেপাশের বাসিন্দারা জানান, এখানে বিপুল পরিমান জমিতে এগ্রোফার্ম করতে গিয়ে আশে পাশের জমির মালিকরা দারুনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ভয়ে তারা মুখ খূলতে সাহস পায়নি।
শেখেরহাটে বিভিন্ন গ্রামে জমি কিনতে গিয়েও জমির মালিকদের জোরবরদস্তি ও নির্যাতন করেছে জিয়াউল হাসানের লোকেরা। এসব সম্পদ বাদে জিয়াউল হাসানের পৈত্রিক বাড়িতে করা হয়েছে মাদ্রাসা, ফাউন্ডেশন ও সরকারী খরচে সাইক্লোন শেল্টার। এ বাড়ীতেও রয়েছে একটি বাংলো বাড়ী। স্থানীয়রা জানান, জিয়উল হাসান কি পরিমান জমি এই এলাকায় কিনেছেন তার সঠিক কোন পরিসংখ্যান তাদের জানা নেই। তবে পিলার দেয়া যত জমি আছে তার প্রায় সব জমিই জিয়াউল হাসানের বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। স্থানীয়দের দাবি সরকারী চাকরী সুবাধে জিয়ার যে বৈধ আয় ছিলো তা দিয়ে এত পরিমান সম্পত্তি অর্জন করা সম্ভব কিনা তা খতিয়ে দেখতে হবে। এছাড়া তালাবদ্ধ এগ্রোফার্মে অভিযান চালানোর দাবি জানান তারা।










