এবার প্রতিবাদের ঝড়ে উত্তাল গোটা ভারত। ভারতের কলকাতার এক হাসপাতালে নারী চিকিৎসককে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় প্রতিবাদে উত্তাল পুরো দেশ। বিক্ষোভের পাশাপাশি কর্মবিরতি পালন করছেন দেশটির চিকিৎসকরা। ফলে বিপর্যস্ত দেশটির চিকিৎসা সেবা।
কলকাতার একটি প্রথম সারির মেডিকেল কলেজে কতর্ব্যরত অবস্থায় একজন তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে গোটা ভারত। ৩১ বছর বয়সী ওই তরুণীর দেহের ময়নাতদন্তে চরম লাঞ্ছনার প্রমাণ মিলেছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ গোটা ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল, এই অভিযোগ ওঠার পর সমাজের সর্বস্তরের মানুষ রীতিমত ফুঁসে উঠেছে।
নিহত তরুণী ছিলেন কলকাতার আর জি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একজন চিকিৎসক। কলকাতার কাছে শহরতলি সোদপুর এলাকার একটি অতি সাধারণ নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে ছিলেন তিনি। ঘটনার দিন ৩৬ ঘণ্টার ‘অন-কল’ ডিউটিতে ছিলেন তরুণী চিকিৎসক। রাতে প্যারিস অলিম্পিকে জ্যাভেলিন থ্রো’র ইভেন্ট টিভিতে দেখেন এবং অনলাইনে আনানো খাবার সহকর্মীদের সঙ্গে খান। এরপর চারতলার পালমোনোলজি বিভাগের সেমিনার হলে কিছুক্ষণের জন্য বিশ্রাম নিতে যান তিনি। পরদিন সকালে জুনিয়র সহকর্মীরা ওই হলের ভেতরেই তার অর্ধনগ্ন মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।
এমন ঘটনা একদমই মেনে নিতে পারছেন না ভারতের মেডিকেল স্টুডেন্টরা। প্রতিবাদের ঢেঊ এখন সজোরে আচরে পড়ছে ভারতের অন্যান্য রাজ্যেও। মঙ্গলবার সেই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে সারা ভারতে। কেবল মহারাষ্ট্রেই আট হাজারের বেশি সরকারি চিকিৎসক বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন। সেখানকার হাসপাতালগুলোতে জরুরি বাদে সব ধরনের সেবা বন্ধ রয়েছে।
মুম্বাইয়ে জেজে হাসপাতাল, সিওন হাসপাতাল, নায়ের হাসপাতাল ও কিং এডওয়ার্ড মেমোরিয়াল হাসপাতালসহ বেশ কয়েকটি হাসপাতাল বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। প্রতিবাদ চলছে ভারতের উত্তর প্রদেশের লখনৌতেও। সেখানকার কিং জর্জ মেডিকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বহির্বিভাগে তালা দিয়ে দেয় বিক্ষোভরত চিকিৎসকরা।
এরই মধ্যে ইন্ডিয়ান মেডিকাল অ্যাসোসিয়েশন ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাড্ডার কাছে চিঠি পাঠিয়ে ডাক্তারদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও হামলা ঠেকানোর জন্য প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়নের দাবি করেছে। এ ছাড়াও, সংগঠনটি সব হাসপাতালকে ‘নিরাপদ জোন’ হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার দাবি করেছে। একইসঙ্গে বিক্ষোভরত চিকিৎসকদের ওপর যেন কোনো ধরনের দমন-পীড়ন চালানো না হয় এবং এই অপরাধের বিচারে যেন দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেই দাবিও জানায় সংগঠনটি।












