বিশ্বে এখন চলছে ২০২৪ সাল। কিন্তু আপনাকে যদি বলা হয় এই পৃথিবীতেই এমন একটি দেশ আছে যেখানে এখনও চলছে ২০১৬ সাল? কি বিশ্বাস করবেন? শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও পূর্ব আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়ায় এমনটাই ঘটে।
দেশটির ক্যালেন্ডার অন্যদের চেয়ে পুরোপুরি আলাদা। সারা বিশ্বে যেখানে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারে সময় হিসাব করে, সেখানে ইথিওপিয়া তাদের সময় হিসাব করে অর্থোডক্স বা জুলিয়ান ক্যালেন্ডারের পাতায়। ফলে অন্যদের থেকে তারা পিছিয়ে আছে প্রায় সাড়ে সাত বছর। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে কেনো এই ভিন্ন নিয়মে চলে দেশটি?
জানা যায় গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের আগে জুলিয়ান ক্যালেন্ডারই মেনে চলত গোটা বিশ্ব। গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার আসার পরে বদলে যায় সময়, দিন, মাস, বছরসহ সবকিছু হিসাবের পদ্ধতি। সেই পদ্ধতি মানতে আপত্তি জানিয়েছিল অনেক দেশই। তাদের অন্যতম ছিল এই ইথিওপিয়া। বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলার তাগিদে অন্য সব দেশই এক সময় গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারে নিজেদের সময় গুনতে থাকে। কিন্তু কট্টর অবস্থানে রয়ে যায় ইথিওপিয়া। নিজেদের ক্যালেন্ডার বদলে ফেলতে কোনোভাবেই রাজি নয় তারা।
১ জানুয়ারি নয়, ইথিওপিয়ায় ধুমধাম করে নতুন বছর পালন করা হয়ে থাকে ১১ সেপ্টেম্বর থেকে। লিপ ইয়ার বা অধিবর্ষের ক্ষেত্রে বছর শুরু হয় ১২ সেপ্টেম্বর থেকে। প্রতি মাসে ৩০ দিন থাকলেও তেরোতম মাসে থাকে অতিরিক্ত ছয় থেকে সাত দিন।
ইথিওপিয়ানদের সময়ের হিসাবটিও বিচিত্র। যেখানে বেশিরভাগ দেশে দিনের শুরুটা হিসাব করা হয় মধ্যরাত অর্থাৎ রাত ১২টা থেকে, ইথিওপিয়ায় সেটি হিসাব করা হয় সকাল থেকে। বেশিরভাগ দেশ যেখানে ২৪ ঘণ্টার ঘড়ি পদ্ধতি ব্যবহার করে, সেখানে ইথিওপিয়ানরা ব্যবহার করে ১২ ঘণ্টার ঘড়ি। এ ঘড়ি সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে।
তবে মজার ব্যাপারটি হলো এই ঘড়িতে সময় শুরু হয় সকাল ১টা থেকে। সকাল ১টা শুনে মনে খটকা তৈরি হতে পারে। তবে বিষয়টি হলো বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ যে সময়কে সকাল ৭টা বলে বিবেচনা করে, ইথিওপিয়ানদের ঘড়ি অনুযায়ী সেটি হলো সকাল ১টা।
ইথিওপিয়া আফ্রিকার একমাত্র দেশ যেটি কখনো অন্য কোনো দেশের উপনিবেশ ছিল না। ইতালির সঙ্গে কয়েকবার যুদ্ধ হয় দেশটির। কিন্তু সেই যুদ্ধেও হার মানেনি ইথিওপিয়া। একসময় আবিসিনিয়া নামে পরিচিত এ দেশটির অনেক বিশেষত্ব রয়েছে। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ও গভীর গুহা রয়েছে এখানে। নান্দনিক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে পুরো দুনিয়ার পর্যটকরা ঘুরতে আসেন এই দেশে।
ইথিওপিয়া তার সময় পদ্ধতি, ক্যালেন্ডার বা বছর গণনার পদ্ধতি পরিবর্তন না করেই নিজস্ব ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ২০২৪ বা ২০১৬ সালে পৌঁছেছে। তবে তথ্য প্রযুক্তির কল্যাণে দেশটির প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষেরাও দিন দিন বিশ্বের অন্যান্য অংশের সাথে সংযুক্ত হচ্ছে। তাই অদূর ভবিষ্যতে ইথিওপিয়ানরা কি তাদের নিজস্ব বর্ষপঞ্জি থেকে বেরিয়ে আসবে, নাকি তাদের আদি বর্ষপঞ্জিতেই থেকে যাবে সেটি সময়ই বলে দেবে।












