সংবাদিক পরিচয়ে নানা জায়গায় প্রতারণার মাধ্যমে নাজমুল হোসেন ইমন নামের এক প্রতারক দুই বছরেই হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। নিজেকে ‘মুক্তির লড়াই’ নামে একটি অনলাইনের রিপোর্টার হিসেবে পরিচয় দেন তিনি।
ঢাকা মহানগর পুলিশ সদর দফতর থেকে গোয়েন্দা কার্যালয়, র্যাব থেকে পিবিআই—সাংবাদিক পরিচয়ে এসব কার্যালয়ে তার অবাধ বিচরণ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বড় কর্মকর্তাদের সঙ্গে রয়েছে ছবি, যা ফেসবুকে প্রচার করে নিজেকে জাহির করতেন ক্ষমতাবান।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত কয়েক বছরে ভুঁইফোড় কিছু অনলাইনের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার হিসেবে কাজ করেন ইমন। আর এর আড়ালে চালিয়ে যান প্রতারণা। ইমনের খপ্পরে পড়ে নিঃস্ব হয়েছেন বহু মানুষ।
এদের মধ্যে এক ভুক্তভোগী হলেন মোছা. নুরবানু। চাকরি দেওয়া এবং প্রকল্পের কাজ এনে দেওয়ার কথা বলে ঐ নারী এবং স্বজনদের কাছ থেকে ইমন হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি টাকার বেশি।
নুরবানু জানান, নাছিরা নামে এক নারীর মাধ্যমে ইমনের সঙ্গে তার পরিচয়। ঐ নারী ইমনকে সঙ্গে নিয়ে ২০২১ সালে একটি ভুয়া সংগঠন তৈরি করেন। সেই সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেন তার ছেলে এবং মেয়েকে। এমনকি সম্মাননা হিসেবে তার ছেলেমেয়েদের ক্রেস্টও দেন। মূলত এ সংগঠন ছিল প্রতারণার কৌশল। এর মাধ্যমেই লোকদের বিভিন্ন ফাঁদে ফেলতেন ইমন।
নুরবানু বলেন, নিজেকে একজন উচ্চমানের কর্মকর্তা এবং সাংবাদিক পরিচয় দেওয়া ইমন আমাকে বলেন, তিনি বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ এনে দেবেন। এরপর তার কথা বিশ্বাস করে ২০২২ সালে আমিসহ আমার বিভিন্ন আত্মীয়র কাছ থেকে তাকে ১ কোটি ৬ লাখ টাকা দেই।
তিনি বলেন, টাকা দেওয়ার পর অনেকদিন চলে গেলেও তিনি কাজ দেওয়ার বিষয়ে কিছু না জানালে তাকে বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞেস করা হয়। এরপর বিভিন্ন সময় তাকে তাগিদ দিলেও তিনি এ বিষয়ে কিছুই করেননি।
পরে জানতে পারি তিনি বড় প্রতারক। এরপর বিভিন্ন সময় তার কাছে টাকা চাইলেও তিনি বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দিতে থাকেন।
এদিকে এ প্রতারকের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের বাড্ডা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার রাজন কুমার সাহা বলেন, অভিযোগ কিংবা আটকের বিষয়টি আমার জানা নেই। বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নিচ্ছি।










