বরিশাল প্রতিনিধিঃ
বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগদিয়ে ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহন করেন ব্যারিস্টার এম শাহজাহান ওমর বীর উত্তম। এরপর থেকেই তার পাশে ছিলেন না রাজাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ ও কাঠালিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের একটি অংশ। সম্প্রতি এটি কাগজে-কলমেও প্রকাশ পেয়েছে। ওমরের পক্ষে নির্বাচন না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে গত সোমবার রাজাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ এক সাধারণ সভায় রেজ্যুলেশনে সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করেন। এতে রাজাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এইচ এম খায়রুল আলম সরফরাজ ও সাধারন সম্পাদক জিয়া হায়দার লিটনসহ দলের ২৫ জন সদস্য স্বাক্ষর করেন। অপরদিকে নিরব ভূমিকায় ছিলো কাঠালিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের একটি অংশ। কারণ তারা প্রার্থীর পক্ষ থেকে নৌকার পক্ষে কাজ করার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পায়নি।
তবে এবার আওয়ামী লীগের জাতীয় নেতা ১৪ দলের মুখপাত্র আমির হোসেন আমুর মধ্যস্ততায় দুই উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সাথে শাহাজাহান ওমরের সমঝোতা হয়েছে। গত বুধবার রাতে বরিশালে আমির হোসেন আমুর বাসায় এক বৈঠকের মাধ্যমে এ সমঝোতা হয়। এসময় ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারন সম্পাদকসহ দুই উপজেলার উল্লেখযোগ্য নেতাসহ জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক ওমর তার নির্বাচনী এলাকা রাজাপুর-কাঠালিয়া সর্বশেষ পরিস্থিতি জানাতে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন আমির হোসন আমু ও শাহজাহান ওমর। এসময় সবপ্রসঙ্গ এড়িয়ে শাহজাহান ওমর বলেছেন, কীভাবে বিএনপিতে গেলেন এবং আওয়ামী লীগে ফেরত আসলেন সেই গল্প।
এসময় আমুকে দেখিয়ে শাহজাহান ওমর বলেন, ‘আমু ভাই আমাকে বিএনপিতে পাঠিয়েছিলেন, আবার তিনিই আওয়ামী লীগে ফিরিয়ে এনেছেন। এ কথা বলে অট্ট হাসি দেন ওমর ও আমু।’ আবার আওয়ামী লীগ ছেড়ে যাবে কিনা এমন প্রশ্নে ওমর বলেন, ‘অস্তাগফিরুল্লাহ, আর জীবনে আওয়ামী লীগ ছেড়ে যাব না।’
শাহজাহান ওমর বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের পর ১৯৭৪ সালে একটি মামলায় জড়িয়ে কারাগারে যাওয়ার পর তিনি সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত হয়ে বিপদগ্রস্ত হন। তখনকার সময়ে বরিশাল আওয়ামী লীগের একচ্ছত্র নেতা নুরুল ইসলাম মঞ্জুর (প্রয়াত) সঙ্গে তাঁর ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। তখনকার মন্ত্রী আবদুর রব সেরনিয়াবাত (পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট শহীদ), তাঁর ছেলে বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এবং আমির হোসেন আমু তাকে সাহায্যে করেছিলেন। হাসানাত আবদুল্লাহ কয়েকবার তাকে কারাগারে দেখতে গেছেন।
শাহজাহান ওমর বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনীতে তাঁর শিক্ষক ছিলেন। সেই পরিচয় সূত্রে বিএনপিতে গিয়েছিলেন। ৯১ এর নির্বাচনের আগে আমির হোসেন আমু তাকে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন। তখন শেখ হাসিনা জানান, তাঁর বাবার (বঙ্গবন্ধু) বন্ধুর চিঠি নিয়ে এসেছেন আরেকজন। তাই তাঁর জন্য কিছু করতে পারছেন না। তখন আমু আবার তাকে বিএনপিতে ফেরত যেতে বলেন।
নির্বাচনীয় এলাকার পরিস্থিতি নিয়ে ওমর বলেন, রাজাপুর-কাঠালিয়ার বিএনপির সকলে তার সঙ্গে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছে। কিছু নাবালক ছেলে এখনো বিএনপিত আছে, তাদের কীভাবে আনতে হয় সে ব্যবস্থাও তার জানা আছে।
১৪ দলের মুখপাত্র আমির হোসেন আমুর বলেছেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখার স্বার্থে উন্নয়নের ধারা অব্যহত রাখার স্বার্থে এবং মুক্তিযুদ্ধে চেতনা ও মূলবোধ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সর্বপরি সাংবিধানিক ভিত্তি বজায় রাখার জন্যই জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের আওয়ামী লীগে যোগদান করেছেন শাহজাহান ওমর। জাতীয় স্বার্থে যোগদান করার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি আজকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মনোনিত হয়েছেন ঝালকাঠি ১ সংসদীয় আসন থেকে।
বিএনপির ভবিষ্যত নিয়ে প্রশ্ন করা হলে আমু বলেন, বিএনপির ভবিষ্যত কি একটু কমনসেন্স থাকলে দেশের মানুষ সবাই-ই উপলব্ধি করতে পারে। আমরা আন্দোলন করতাম হরতালের ডাক দিলে অটোমেটিক হরতাল হয়ে যেতো। পিকেটিংও লাগতো না, পরে আমরা মিছিল করতাম। কিন্তু এখন তাদের (বিএনপির) কত দিন-মাস ধরে অবরোধ হরতালের ডাক চলতেছে। গাড়ি-রিক্সা সবই চলতেছে, বাজারঘাট চলতেছে, কোনো কিছুতেই মনে হয় না হরতাল বা অবরোধ চলতেছে। অর্থাৎ এতে জনগনের সম্পৃক্ততা নেই। আজ বিএনপি জনগন থেকে বিচ্ছিন্ন। জনগন থাকলে তাদের হরতাল অবরোধ সফল হতো।
তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতা মারা যাওয়ার পর সবাই আমাদের নেতারা জেলে ছিলো। তারপরও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে দেশে আন্দোলন হয়েছে, জিয়াউর রহমান, এরশাদ ও খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আন্দোলন হয়েছে। আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব শূন্য করার পরও বিভিন্ন জেলার সমস্ত নেতারা কারাগারে থাকার পরেও, আমাদের বিরুদ্ধে হামলা মামলা হওয়ার পরেও দেশে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আন্দোলন হয়েছে। আওয়ামী লীগের আন্দোলনে খালেদা জিয়া বাধ্য একমাসের মধ্যে ক্ষমতা ছেড়ে আবার নির্বাচন দিয়েছে। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে। এরশাদও পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলো। আওয়ামী লীগ আন্দোলন সংগ্রাম পাকিস্তান আমল থেকে করে আসছে এবং জনগনকে নিয়েই করে আসছে।
আমির হোসেন আমু বলেন, আন্দোলন দলের কর্মীর উপর নির্ভর করে না, আন্দোলন নির্ভর করে জনগনের সম্পৃক্ততায়। জনগন সম্পৃক্ত থাকলে আন্দোলনে সফল হওয়া যায় নইলে না।










