মানবাধিকার কর্মীদের হয়রানি বন্ধ করতে বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ নিযুক্ত বিশেষজ্ঞরা। মানবাধিকার কর্মীদের নির্ভয়ে এবং নিরাপদ পরিবেশে কাজ করার বিষয়টি নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন তারা।
মঙ্গলবার জেনেভা থেকে পাঠানো জাতিসংঘের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের প্রতিনিধিদের হয়রানি বন্ধ এবং তাদের বিষয়ে যথাযথ প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান জানাতে বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা।
গত বছর জুনে অধিকারের সব ধরনের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় সরকার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানবাধিকারকর্মী এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে চুপ করিয়ে দেয়ার জন্য ফৌজদারি কার্যবিধির অপব্যবহার করা হচ্ছে।
অধিকারের কর্মীরা জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়ে গুম এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগগুলো নথিভুক্ত করেন। তাই অধিকার ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা মানবাধিকার ইস্যুতে প্রতিবেদন তৈরিতে বাধা দিচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অধিকারের লাইসেন্স নবায়নের আবেদন ২০১৪ সাল থেকে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত বাংলাদেশের এনজিও ব্যুরোতে বিবেচনায় ছিল। নবায়নের আবেদন প্রত্যাখ্যান হয়েছে এবং সংস্থাটির বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ, বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইস্যু তৈরির অভিযোগ আনা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, অধিকারের বিরুদ্ধে মামলা বাংলাদেশে মানবাধিকারকর্মী ও সংগঠনগুলোকে হয়রানি এবং লক্ষ্যে পরিণত করার নজির বলে জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। তারা বলেন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং প্রতিবেদন প্রকাশের ১০ বছর পরও হয়রানির শিকার হচ্ছেন সংস্থাটির সেক্রেটারি আদিলুর রহমান খান ও পরিচালক এএসএম নাসিরউদ্দিন ইলান।
বিবৃতিতে বিশেষজ্ঞরা বলেন, অধিকারের বিরুদ্ধে চলা মামলাটি বাংলাদেশে মানবাধিকার কর্মী ও সংস্থাগুলোর ওপর চলমান হয়রানিকেই প্রতিফলিত করে। পাশাপাশি আইসিসিপিআর-এর আর্টিকেল ২২-এর অধীনে সংগঠনের স্বাধীনতা নিশ্চিতের যে কথা বলা আছে তারও স্পষ্ট লঙ্ঘন হয়েছে বলে জানান জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা।












