জনতার খবর ডেস্কঃ মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর এর উপজেলা পর্যায়ে মহিলাদের জন্য আয়বর্ধক (আইজিএ) প্রশিক্ষণ প্রকল্পে কর্মরত বিভিন্ন ট্রেডের ৮৫২ জন প্রশিক্ষক ও ৪৩১ জন অফিস সহায়ককে প্রকল্প শেষে কর্মক্ষেত্রে বহাল এবং পদ সৃজনপূর্বক রাজস্বখাতে স্থানান্তরের দাবিতে অধিদপ্তরের সামনের সড়কে অবস্থান ও মানববন্ধন করছেন কর্মচারীরা।
গত রবিবার সকাল ১০ টা থেকে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের সামনে মানববন্ধন ও অবস্থান করেন প্রকল্পে কর্মরত প্রশিক্ষক এবং অফিস সহায়করা। আজ সোমবার সন্ধ্যায় কর্তৃপক্ষের অনুরোধে তাদের অবস্থান কর্মসূচি ও মানববন্ধন প্রত্যাহার করেন। আগামী ২০ জুনের মধ্যে প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি করা না হলে, লাগাতার কর্মসূচি দেয়ার কথা জানান আন্দলন কারীরা।

৮৫২ জন প্রশিক্ষক ও ৪৩১ জন অফিস সহায়ক এমন একটি প্রকল্পে কাজ করছেন, যে প্রকল্প মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজস্ব গৃহীত “নারী ক্ষমতায়ন” এর প্রধান একটি প্রকল্প। এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য নারীদের বেকারত্বের দূরীকরণ এবং উদ্যোক্তা তৈরি করা। এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৮৪ হাজারের অধিক নারী উদ্যোক্তা তৈরি করা হয়েছে।
প্রকল্পের এই সফলতার অন্যতম কারিগর প্রশিক্ষকরা। প্রকল্প সফলতার মুখ দেখলেও প্রকল্পটি যে জনবলের মাধ্যমে সফল হয়েছে তারা আজ চারকি হারাতে চলছেন। আগামী ৩০ জুন ২০২৩ এ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে।
মানববন্ধনের উপস্থিত প্রশিক্ষকদের কাছ থেকে জানা যায়, তারা শুধু প্রকল্পের কাজ নয়, উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কম্পিউটার অপারেটরের কাজসহ পাশাপাশি সকল কাজে দক্ষতার সাথে সহযোগিতা করে আসছেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি প্রকল্প বাতিল না করে নীতিমালা ২০১৮ অনুযায়ী পদসৃজনপূর্বক রাজস্ব খাতে স্থানান্তর করে আমাদের ১৩০১ টি পরিবারকে বাঁচার রাস্তা করে দেবেন।

তারা আরো জনান, প্রধানমন্ত্রীর গৃহীত মহৎ উদ্যোগ নারীর ক্ষমতায়ন সফল হোক। এই আইজিএ প্রকল্প চলমান রাখতে জনবল সহ রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই।
আইজিএ প্রকল্পের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আহসান হাবীব সাজু বলেন “১৩০১ টি পরিবার আজ রাস্তায়। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন আমাদের চাকরি করার বয়স শেষ হয়ে যাওয়ায় আমরা অন্য কোথাও চাকরিতে ঢুকতে পারবো না তাই এই প্রকল্পটির চলমান রেখে জনবলসহ রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের জোর দাবি জানাচ্ছি।”
আইজিএ অফিস সহায়ক কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি রিয়াদ বলেন,“আমরা নিরুপায়, আমাদের পরিবার নিয়ে বাঁচার সুযোগ করে দিন।”
ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়া উপজেলার ফ্যাশন ডিজাইনের প্রশিক্ষক হালিমা খাতুন জানান, “আমাদের চাকরির বয়স শেষ হয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী যাতে সহানুভূতির সাথে বিষয়টি বিবেচনা করে এবং আমাদের পরিবারে দিকে তাকিয়ে প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি ও চাকরি স্থায়ী করণের দাবি দ্রুত মেনে নেন।”
নারী প্রশিক্ষক লতা রহমান বলেন, “এই প্রকল্প মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব গৃহীত “নারী ক্ষমতায়ন” এর প্রধান একটি প্রকল্প। আমরা নারীরা এই প্রকল্পে প্রায় ৮০ শতাংশ মাস্টার্স ডিগ্রী নিয়ে চাকরি করছি। এই মহিলাদের মধ্যে রয়েছে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান, নাতি নাতনি। এ প্রকল্প রয়েছে বিধবা, স্বামীহারা, এতিম নারী কর্মী। তিনি আরো বলেন সদ্য এক সপ্তাহ আগেও আমাদের এক সহকর্মী তার স্বামীকে হারান। তার কোলে ৩ মাসের একটি বাচ্চা রয়েছে। এই নারী এখন কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে! তিনি আরো বলেন আমরা শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করছি যাতে আমাদের দাবিগুলো মেনে আইজিএ প্রকল্প চলমান রেখে জনবল সহ রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।”












