বর্তমানে প্রায় ৯১ শতাংশ শিক্ষার্থী ইন্টারনেটে আসক্ত। শিক্ষার্থীরা তাদের মানসিক সমস্যার জন্য ইন্টারনেটকে দায়ী করছে।
গবেষণায় দেখা গিয়েছে ২৬. ১ শতাংশ শিক্ষার্থী মনে করেন তাদের মানসিক সমস্যার জন্য ইন্টারনেট ‘পুরোপুরি’ দায়ী। আবার ৫৯.৮ শতাংশ শিক্ষার্থী মনে করেন তাদের মানসিক সমস্যার জন্য ইন্টারনেট ‘মোটামুটি’ দায়ী। মাত্র ৮.৩ শতাংশ শিক্ষার্থী এক্ষেত্রে ইন্টারনেটকে দায়ী করছে না।
বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস (যন্ত্র) ব্যবহারের কারণে শিক্ষার্থীদের ১৬ ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। মূলত করোনা চলাকালীন অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ইন্টারনেটের সঙ্গে পরিচিত হয়। এ সময় তারা অবাধে ডিভাইস ব্যবহারের সুযোগ পায় এবং সেটিই তাদের মধ্যে আসক্তি তৈরি করে। ৯১ শতাংশ শিক্ষার্থীই এখন ইন্টারনেটে আসক্ত।
ইন্টারনেট ছাড়া বর্তমান জীবন অচল। প্রতিদিনের কাজে ইন্টারনেট কোনো না কোনোভাবে যুক্ত। বর্তমান সময়ে ৩৮.২ শতাংশ শিক্ষার্থী পড়াশোনার কাজে ইন্টারনেট ব্যবহার করে। বাকিদের কেউ অবসর সময় কাটাতে ইন্টারনেট ব্যবহার করে। যোগাযোগের প্রয়োজনে ইন্টারনেট ব্যবহার করে মাত্র ৪২.৯ শতাংশ শিক্ষার্থী।
গষেণায় প্রকাশিত হয়েছে সর্বোচ্চ ৬.২ শতাংশ শিক্ষার্থী দিনে ১১ ঘণ্টার ওপরে অনলাইনে থাকে এবং সর্বনিম্ন ৩২.৩ শতাংশ শিক্ষার্থী ইন্টারনেট ব্যবহার করে ২ থেকে ৪ ঘণ্টা। ইন্টারনেটে অতিরিক্ত সময় ব্যয় শিক্ষাথীদের স্বাভাবিক জীবনে ‘প্রচণ্ড নেতিবাচক’ প্রভাব ফেলছে বলে জানান শিক্ষার্থীরা নিজেই। পড়াশোনায় মনোযোগের অভাবের মূল কারণ হিসেবে ইন্টারনেটকেই দায়ী করছে তরুণ প্রজন্ম।
১৭.৮ শতাংশ ইন্টারনেটে পর্ন দেখা, সাইবার ক্রাইম, বাজি ধরা, বুলিং করা প্রভৃতি অপ্রীতিকর কাজের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে পড়েছে ফলে পড়াশোনায় অমনযোগী হয়ে পড়ছে তারা। ইন্টারনেট আসক্তির ফলে বেশিরভাগ শিক্ষার্থী কখনোই পরিবারের সঙ্গে মন খুলে গল্প করে না। পরিবারকে সময় না দেওয়ার ফলে শিক্ষার্থী এবং পরিবারের মাঝে একধরনের দূরত্ব তৈরি হচ্ছে।
ইন্টারনেট আসক্তিতে তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা। ২৭ শতাংশ শিক্ষার্থীর ধৈর্যশক্তির হ্রাস ঘটেছে। ২৬ শতাংশ হঠাৎ রেগে যায়, ২৭.৭ শতাংশ চুপচাপ হয়ে যায়, ২২.৫ শতাংশের ভেতর জড়তা তৈরি হয়, ২৪.৫ শতাংশের মধ্যে অবাস্তব প্রত্যাশা তৈরি হয় এবং ২৩.৬ শতাংশ ঘরকুনো হয়ে যাচ্ছে।
ইন্টারনেট রেসকিউ ক্যাম্প স্থাপনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আসক্তি কাটিয়ে উঠতে কাউন্সেলিং, থেরাপি এবং শিক্ষামূলক প্রোগ্রাম প্রদান করার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের এই আসক্তি কমানো সম্ভব বলে জানান গবেষকরা। তাছাড়া সামাজিক ও পারিবারিক যোগাযোগে ইন্টারনেট নির্ভরতার পরিবর্তে সরাসরি যোগাযোগকে উৎসাহিত করেন তারা।












