জনতার খবর ডেস্কঃ লাখ লাখ মানুষ আল্লাহর দরবারে দুহাত তুলে আমিন আমিন ধ্বনির আওয়াজে আখেরী মোনাজাতের মাধ্যমে আজ শেষ হয়েছে তাবলীগ জামাতের আলেমওলেমা গ্রুপের প্রথম পর্বের বিশ্ব ইজতেমা। দেশ ও সারা বিশ্বের কল্যাণ, দুনিয়া ও আখেরাতে সুখ শান্তি কামনা করে অনুষ্ঠিত হয় আখেরী মোনাজাত। তাবলীগ জামাতের শীর্ষ মুরুব্বি কাকরাইল মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা জুবায়ের আহমেদ মোনাজাত পরিচালনা করেন।

সকাল ১০ টার দিকে মোনাজাত শুরু হয় হয়। ২১ মিনিট মোনাজাতে তুরাগ নদীর আশপাশে থাকা মুসল্লিরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। আরবি ও বাংলা ভাষায় মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। মোনাজাতে মাওলানা জুবায়ের প্রথম পবিত্র কোরআনের আয়াতে, পরের অংশ বাংলা আরবি মিলেয়ে আখেরী মোনাজাত শেষ করেন। মোবাইল ফোন ও স্যাটেলাইট টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারের সুবাদে দেশ-বিদেশের লাখ লাখ মানুষও মোনাজাতে শরীক হন। আখেরী মোনাজাত উপলক্ষে টঙ্গী, গাজীপুর, উত্তরাসহ আশপাশ এলাকার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কলকারখানা, মার্কেট, বিপণিবিতান, অফিসসহ সবকিছু বন্ধ থাকে।
অনেকে মনে করেছিলেন বরাবরের মতো এবারও আখেরী মোনাজাত দুপুরের দিকে অনুষ্ঠিত হবে তাই বহু মুসল্লি দেরি করে বাসা থেকে বের হপলওয়ায় রাস্তায়ই মোনাজাতে অংশ নিতে দেখা যায়। কিন্তু আখেরি মোনাজাত ১০ টার মধ্যে শুরু হয়ে যাওয়ায় রাস্তায়ই হাঁটতে হাঁটতে মোনাজাতে শরীক হতে দেখা যায়। হাঁটতে হাঁটতে মোনাজাতে অংশ গ্রহন করতে করতে ইজতেমা মাঠের দিকে যাবার পথে মোনাজাত শেষ হয়ে গেলে ওই অবস্থায়ই মোনাজাত শেষ করে ইউটার্ন নিয়ে আবার নিজ নিজ বাড়ি পথের গন্তব্যে রওনা হন।

মানুষের ঢলে সকাল ৮ টার আগেই ইজতেমা মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। মুসল্লিরা মাঠের আশপাশের রাস্তা, অলি-গলি, বিভিন্ন ভবনের ছাদে অবস্থান নেন। ইজতেমাস্থলে পৌঁছাতে না পেরে কয়েক লাখ মানুষ কামারপাড়া সড়ক ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক, পূবাইল সড়ক, আশুলিয়া আবদুল্লাহপুর সড়কে অবস্থান নিয়ে মোনাজাতে অংশ নেন।
প্রথম পর্বের ইজতেমায় নেতৃত্ব দেন আলেমওলেমা গ্রুপের মাওলানা জোবায়ের পন্থাী অনুসারীরা।
৪ দিন বিরতি দিয়ে ২০, ২১ ও ২২ জানুয়ারি আবার শুরু হবে আদি তাবলীগ জামাতের ভারতের নয়াদিল্লির তাবলীগ আমির মাওলানা সাদ অনুসারীদের ইজতেমা। ২২ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে ২০২৩ সালের বিশ্ব ইজতেমার আয়োজন।












