দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নতুন দলকে নিবন্ধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সে জন্য ২৯ আগস্ট পর্যন্ত সময় বেধে দিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। আবেদনের তেমন সাড়া না পেয়ে সময় আরো দুই মাস বাড়েছে কমিশন।
২৪ আগস্ট বুধবার ইসির যুগ্ম সচিব ও পরিচালক (জনসংযোগ) এসএম আসাদুজ্জামান বলেন, ‘দুই মাস বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত আবেদন করা যাবে।’
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, ‘আইন অনুযায়ী, প্রতি সংসদ নির্বাচনের পূর্বে নতুন দলগুলোকে নিবন্ধন দেওয়ার জন্য আবেদন আহ্বান করার বিধান আছে। সে মোতাবেক গত ২৬ মে দলগুলোর কাছে আবেদন আহ্বান করে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি।’
নতুন দলের নিবন্ধন সংক্রান্ত গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়- গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৯০ক এর অধীন নিবন্ধন করতে ইচ্ছুক এবং রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বিধিমালা, ২০০৮-এ উল্লিখিত শর্তাবলী পূরণে সক্ষম রাজনৈতিক দলসমূহকে বিধিমালায় সংযোজিত ফরম-১ নির্বাচন কমিশন প্রদত্ত নির্দেশিকা মোতাবেক পূরণপূর্বক আগামী ২৯ আগস্ট, ২০২২ তারিখের মধ্যে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করার আহবান জানানো যাচ্ছে। নিবন্ধীকরণে আগ্রহী রাজনৈতিক দলকে স্বীয় লেটারহেড প্যাডে দরখাস্ত করতে হবে।
আবেদনের সঙ্গে যা জমা দিতে হবে-
(ক) দলের গঠনতন্ত্র;
(খ) দলের নির্বাচনী ইশতেহার, যদি থাকে;
(গ) দলের বিধিমালা, যদি থাকে;
(ঘ) দলের লোগো এবং পতাকার ছবি;
(ঙ) দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি বা সমমানের কমিটির সকল সদস্যের পদবীসহ নামের তালিকা;
(চ) দলের নামে রক্ষিত ব্যাংক একাউন্ট নম্বর ও ব্যাংকের নাম এবং উক্ত একাউন্টের সর্বশেষ স্থিতি;
(ছ) দলের তহবিলের উৎসের বিবরণ;
(জ) দলের নিবন্ধনের দরখাস্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অনুকূলে প্রদত্ত ক্ষমতাপত্র;
(ঝ) নিবন্ধ ফি বাবদ সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের বরাবরে জমাকৃত অফেরতযোগ্য টাকার ট্রেজারি চালানের কপি (ট্রেজারীতে টাকা জমাদানের কোড নম্বর-১০৬০১০১১০০১২৫-১১০০০০০০০-১১০০১০০০-১৪২২২০৪);
(ঞ) দরখাস্ত দাখিলে দিন পর্যন্ত-
(অ) বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর হতে দরখাস্ত দাখিল করার তারিখ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের যে কোনো একটিতে দলীয় নির্বাচনি প্রতীক নিয়ে কমপক্ষে একটি আসন লাভের সমর্থনে প্রামাণিক দলিল; অথবা
(আ) বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর হতে দরখাস্ত দাখিল করার তারিখ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের যে কোন একটিতে দরখাস্তকারী দল কর্তৃক নির্বাচনে অংশগ্রহণকৃত নির্বাচনী এলাকায় প্রদত্ত মোট ভোট সংখ্যার শতকরা পাঁচ ভাগ ভোট লাভের সমর্থনে কমিশন বা তদকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কর্তৃক ইস্যুকৃত প্রত্যয়নপত্র; অথবা
(ই) দলের কেন্দ্রীয় কমিটিসহ, উহা যে নামেই অভিহিত হোন না কেন, একটি সক্রিয় কেন্দ্রীয় দপ্তর অন্যূন এক তৃতীয়াংশ প্রশাসনিক জেলায় কার্যকর জেলা দপ্তর এবং অন্যূন একশতটি উপজেলা বা, ক্ষেত্রমতে, মেট্রোপলিটন থানায় কার্যকর দপ্তর এবং প্রতি উপজেলায় বা, ক্ষেত্রমত, থানায় অন্যূন দুইশত ভোটার সদস্য হিসাবে দলের তালিকাভুক্ত থাকার সমর্থনে প্রামাণিক দলিল।
সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে কোনো রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধিত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর ওই দলের অনুকূলে কমিশন ফরম-৩ এ একটি নিবন্ধন সার্টিফিকেট প্রদান করবে এবং নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নাম সরকারি গেজেটে প্রকাশ করবে।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন প্রথা চালু করে ইসি। প্রথম বছরে ১১৭টি আবেদন জমা পড়ে। এরমধ্যে শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ৩৯টি দল নিবন্ধন পায়। ২০০৮ সাল থেকেই থেকে নিবন্ধন ছাড়া কোনো দল তার প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে না। এখন পর্যন্ত ৪৪টি রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধন দিয়েছে ইসি। এরমধ্যে পাঁচটি দলের নিবন্ধন বাতিলও করা হয়েছে। বর্তমানে ইসির নিবন্ধনে ৩৯টি দল রয়েছে।
ইসি সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর নিবন্ধনের জন্য আবেদন চেয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল কমিশন। সে বছর ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নতুন দল ইসিতে নিবন্ধিত হওয়ার জন্য আবেদন করার সুযোগ পায়। তখন ৭৬টি দল ইসির নিবন্ধন পাওয়ার জন্য আবেদন করলেও কোনো দলকেই নিবন্ধন দেয়নি কেএম নূরুল হুদা কমিশন। যদিও পরবর্তীতে আদালতের আদেশে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন-এনডিএম (সিংহ) ও বাংলাদেশ কংগ্রেস (ডাব) নিবন্ধন দেয় ইসি।
সূত্র জানায়, এরআগে দশম সংসদ নির্বাচনের আগে ৪৩টি দল নিবন্ধনের আবেদন করেছিল। তার মধ্য থেকে ৪১টিকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) ও সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট এই দুইটি দলকে নিবন্ধন দিয়েছিল কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ কমিশন।
নিবন্ধিত যে পাঁচ দলের নিবন্ধন বাতিল হয়েছে: ফ্রিডম পার্টি; বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী; ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলন; জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা); ও প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক পার্টি (পিডিপি)।












