জনতার খবর ডেস্কঃ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ‘বাংলার সমৃদ্ধি’ জাহাজে রাশিয়ার রকেট হামলায় নিহত জাহাজের থার্ড ইঞ্জিনিয়ার মো. হাদিসুর রহমান আরিফ বরগুনার বেতাগী উপজেলার কৃতি সন্তান। আরিফ বেতাগীর উপজেলার ৩ নং হোসনাবাদ ইউনিয়নের কদমতলা গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক মাস্টার এর বড় ছেলে। ৪ ভাই বােনের মধ্যে হাদিসুর রহমান আরিফ দ্বিতীয়। তিনি ৪৭ ব্যাচের ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। আরিফ ৬মাস আগে বাড়ি ছুটিতে আসছিলেন। এক মাসের ছুটি শেষে আবার জাহাজে চলে যান।

হাদিসুরের নিহতের বিষয়টি জানিয়ে বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির কমান্ড্যান্ট সাজিদ হুসাইন বলেন, ‘বাংলাদেশ সময় বুধবার রাত ৯টা ২৫ মিনিটে ‘বাংলার সমৃদ্ধি’তে রকেট হামলা হয়েছে। এতে ওই জাহাজের থার্ড ইঞ্জিনিয়ার মো. হাদিসুর রহমান মারা গেছেন। বাকিরা ভালো আছেন।
এ ঘটনায় নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক একাউন্টে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন সাজিদ। স্ট্যাটাস হুবুহু তুলে ধরা হলো- এমভি বাংলার সমৃদ্ধিতে রকেট হামলা। একজন বাদে বাকি সবাই অক্ষত। কিছুক্ষণ আগে বাংলাদেশ সময় (২ মার্চ ২০২২) রাত প্রায় ৯:২৫-এ জাহাজের ব্রিজে রকেট হামলা হয়েছে। সবার সাহসী তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে আগুন নিভাতে পেরেছে। সবাই আল্লাহর কাছে ওদের জন্য সাহায্য প্রার্থনা করি। গভীর বেদনার সাথে জানাচ্ছি যে জাহাজের থার্ড ইঞ্জিনিয়ার মো. হাদিসুর রহমান মৃত্যুবরণ করেছেন। যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনে আটকে পড়ে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের জাহাজ ‘বাংলার সমৃদ্ধি’। জাহাজটিতে ২৯ জন বাংলাদেশি নাবিক ছিলেন। জাহাজটি বর্তমানে ইউক্রেনের অলিভিয়া বন্দর চ্যানেলে নোঙর করা আছে।

রকেট হামলার পরে কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা জানার চেষ্টা চলছে। বিএসসি সূত্রে জানা গেছে, সিরামিকের কাঁচামাল ‘ক্লে’ পরিবহনের জন্য জাহাজটি তুরস্ক থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরের জলসীমায় পৌঁছায়। সেখান থেকে কার্গো নিয়ে ইতালি যাওয়ার কথা ছিল। তবে যুদ্ধাবস্থা এড়াতে জাহাজটিকে সেখানে পৌঁছানোর পরই পণ্য বোঝাই না করে দ্রুত ফেরত আসার জন্য নির্দেশনা দেয় শিপিং কর্পোরেশন। শেষ মুহূর্তে বন্দরের পাইলট না পাওয়ায় ইউক্রেনের জলসীমা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি বাংলাদেশের এই জাহাজটি। এরপর যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ইঞ্জিনিয়ার হাদিসুর রহমান আরিফের মৃত্যুর সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বেতাগীর সর্বত্র শোকের ছায়া নেমে আসে।

আজ ০৩ মার্চ বৃহস্পতিবার সকালে নিহত আরিফের বাড়ি গিয়ে দেখা যায় কান্না করতে করতে স্বজনরা মূর্ছা যাচ্ছেন। প্রতিবেশীরা তাদের সান্ত্বনা দিচ্ছেন। কথা হয় আরিফের ছোট ভাই গোলাম মাওলানা প্রিন্সের সাথে। প্রিন্স বলেন, আমার সাথে ভাইয়া কথা বলছিল এমন সময় একটি বিকট শব্দ হয়ে ফোন কল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পর জানতে পারি আরিফ ভাইয়া নিহত হয়েছেন।

যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনে আটকে পড়ে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের জাহাজ ‘বাংলার সমৃদ্ধি’। জাহাজটিতে ২৯ জন বাংলাদেশি নাবিক ছিলেন। জাহাজটি বর্তমানে ইউক্রেনের অলিভিয়া বন্দর চ্যানেলে নোঙর করা আছে। সিরামিকের কাঁচামাল ‘ক্লে’ পরিবহনের জন্য জাহাজটি তুরস্ক থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরের জলসীমায় পৌঁছায়। সেখান থেকে কার্গো নিয়ে ইতালি যাওয়ার কথা ছিল। তবে যুদ্ধাবস্থা এড়াতে জাহাজটিকে সেখানে পৌঁছানোর পরই পণ্য বোঝাই না করে দ্রুত ফেরত আসার জন্য নির্দেশনা দেয় শিপিং কর্পোরেশন। শেষ মুহূর্তে বন্দরের পাইলট না পাওয়ায় ইউক্রেনের জলসীমা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি বাংলাদেশের এই জাহাজটি। এরপর যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।










