জনতার খবর ডেস্কঃ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে যাচাই করেই নিয়োগ দেয়া হয়, তাই র্যাবের বিরুদ্ধে জাতিসংঘে ১২ মানবাধিকার সংস্থার চিঠি নিয়ে সরকার চিন্তিত নয় বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে এক অনুষ্ঠানে এ কথা জানান তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চিঠির কারণে শান্তিরক্ষী মিশনে বাংলাদেশের ওপর নেতিবাচক কোন প্রভাব পড়বে না। পরে বিএনপি প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তারা দেশের ক্ষতির জন্য লবিষ্ট নিয়োগ করেছে। আর আওয়ামী লীগ করেছে উন্নয়নের স্বার্থে।
এসময় তিনি আরো দাবি করেন, বিএনপি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার রুখতে আন্তর্জাতিক নানা মহলে লবিষ্ট নিয়োগ করে সুপারিশ করেছিলো। এর প্রমাণও সরকারের কাছে আছে। গত বৃহস্পতিবার র্যাবকে শান্তিরক্ষা মিশনে নিষিদ্ধ করতে জাতিসংঘকে ১২টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা যে চিঠি দিয়েছে সেখানে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম বিভাগের উচিত র্যাবকে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন থেকে নিষিদ্ধ করা। চিঠির সঙ্গে র্যাবের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো যুক্ত করে দেয়া হয়েছে।
এই সংস্থাগুলো হলো অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, এশিয়ান ফেডারেশন অ্যাগেইন্স ইন-ভলান্টারি ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স (এএফএডি), এশিয়ান ফোরাম ফর হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বা ফোরাম এশিয়া, এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন, এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস (এএনএফআরইএল), ওয়াল্ড অ্যালায়েন্স ফর সিটিজেন পার্টিসিপেশন, ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট জাস্টিস প্রজেক্ট, ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন ফর হিউম্যান রাইটস, রবার্ট এফ কেনেডি হিউম্যান রাইটস, দ্য অ্যাডভোকেটস ফর হিউম্যান রাইটস, ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন অ্যাগেইনস্ট টর্চার (ওএমসিটি)।
চিঠিতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বলেছে, র্যাবের কিছু কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, জোরপূর্বক গুম, নির্যাতনসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের নানা অভিযোগ রয়েছে। এজন্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন থেকে নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছে।
চিঠিতে জাতিসংঘের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বলছে, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে কাউকে নিয়োগ দেয়ার আগে একটি যাচাই পদ্ধতি চালু করা উচিত, যেখানে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, নির্যাতনের অভিযোগও তদন্ত করে দেখা হবে। ১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র্যাবের সাবেক-বর্তমান ৭ কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। সে সূত্র ধরেই মানবাধিকার সংস্থাগুলোর জাতিসংঘে চিঠি।












