আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ টিকটকে প্রেম থেকে ৬১ বছরের আমেরিকান নারীকে বিয়ে করেন ২৪ বছরের এক যুবক। অসম সম্পর্কের এই বিয়েতে বর-বধূর বয়সের পার্থক্য ৩৭ বছর। ওই নারীর সাত সন্তান আর নাতি-নাতনি রয়েছে ১৭ জন। তার স্বামী সেই নাতিদেরই একজনের বন্ধু।
বরের নাম কিউরান ম্যাককেইন। বধূর নাম শেরিল ম্যাকগ্রেগর। কিউরান বয়স যখন মাত্র ১৫ বছর, তখন শেরিলের সঙ্গে তার প্রথম সাক্ষাৎ হয়। শেরিলের এক ছেলের রেস্টুরেন্টে কাজ করতেন কিউরান। শেরিলকে একটি সবজির দোকানে ক্যাশিয়ারের চেয়ারে দেখেন কিউরান, তখন পূর্বপরিচয়ের সূত্রে তাদের মধ্যে ফের আলাপ হয়।

কথাবার্তার একপর্যায়ে কিউরান জানতে পারেন, শেরিল নিয়মিত টিকটক ভিডিও বানান। একটি ভিডিওতে নিজের নাচের দৃশ্য আপলোড করেছিলেন তিনি। সেখানে অনেকেই বাজে মন্তব্য করেছেন, এ নিয়ে মন খারাপ তার। তখন শেরিলকে সান্ত্বনা দেন কিউরান। পরে একসঙ্গে টিকটক ভিডিও বানানো শুরু করেন তারা। এর মাধ্যমে একে অপরের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন কিউরান-শেরিল, ফুটতে থাকে তাদের প্রেমের ফুল।
গত ৩১শে জুলাই আংটি পরানোর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে যুগলে পরিণত হন অসম বয়সের এ প্রেমিক-প্রেমিকা। তার মধুর সমাপ্তি হয়েছে গত ৩রা সেপ্টেম্বর। সেদিন টিকটকের একটি বিশেষ অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভ দেখানো হয়েছে তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান।

মাস চারেক হল বিয়ে হয়েছে। তবে এর মধ্যেই নিজেদের সন্তান চাইছেন আমেরিকার এ দম্পতি। তবে নিজের বয়সের কথা মাথায় রেখে গর্ভদাত্রী খুঁজছেন নববধূ। সে কথা নেটমাধ্যমে ঘোষণাও করেছেন তিনি। জানিয়েছেন, সারোগেসি-র মাধ্যমে সন্তানের মা হতে চান। ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে তা নিয়ে তুমুল হইচই শুরু হয়েছে নেটমাধ্যমে। অনেকেই তাঁদের ভালবাসায় ভরিয়ে দিলেও কেউ আবার ছিচ্ছিকার করেছেন। কম যান না ওই বধূর আত্মীয়-স্বজনেরাও। দম্পতির এই সিদ্ধান্তে তির্যক মন্তব্যও ছুড়ে দিয়েছেন তাঁরা।

তবে লোকে যে যা-ই বলুক না কেন, নিজেদের সম্পর্কের প্রতি আস্থা রেখেছেন শেরিল এবং কিউরান। তাঁদের মতে, প্রেম কোনও কিছুরই বাধা মানে না। সম্পর্কের শুরুটা কী ভাবে হল? কিউরান জানিয়েছেন, শেরিলকে প্রথম দেখেন ২০১২ সালে। সে সময় তাঁরা দু’জনেই একটি ফাস্ট ফুড চেন-এ কাজ করতেন। সে সময় কিউরানের বয়স ছিল ১৫।

গোড়া থেকেই একে অপরের প্রতি টান অনুভব করেননি শেরিল বা কিউরান। বছর আটেক পর ২০২০ সালে ফের দেখা হয় দু’জনের। সে সময় একটি সব্জির দোকানে হিসাব রক্ষকের কাজ করছিলেন শেরিল। ফের শেরিলের সঙ্গে দেখা হওয়ামাত্রই প্রেমে পড়েছিলেন কিউরান। সেই থেকেই প্রেমের পথে একসঙ্গে হাঁটা দু’জনের।
শেরিল এবং কিউরানের মধ্যে ৩৭ বছরের ফারাক থাকলেও আর পাঁচটা দম্পতির থেকে নিজেদের আলাদা মনে করেন না তাঁরা। বছর দুয়েক আগে দেখা হওয়ামাত্র ডেটিং শুরু করেন। একান্ত মুহূর্তগুলিও নিজেদের কাছেই বন্দি করেননি তাঁরা। তা ছড়িয়ে দিয়েছেন ‘টিকটক’ ভিডিয়োর মাধ্যমে। কখনও তাঁরা একসঙ্গে উদ্দাম নাচে তাল মেলাচ্ছেন। কখনও বা ঘনিষ্ঠ চুম্বনে আবদ্ধ। নেটমাধ্যমে সে সব ঘিরেই ঝড় তুলেছেন দম্পতি।

প্রেমে বছর ঘুরতে না ঘুরতেই তড়িঘড়ি বিয়েও সেরে ফেলেছেন শেরিল এবং কিউরান। গত বছরের সেপ্টেম্বর তাঁদের বিয়ের সরাসরি সম্প্রচার হয়েছিল ‘টিকটক’ অ্যাপে। তাতে উচ্ছ্বসিত দম্পতির হাজার হাজার ভক্ত। ভক্তদের উৎসাহেই তাঁদের নিয়ে গোটা একটি অ্যাকাউন্ট খুলে ফেলেছেন দম্পতি।
শেরিল এবং কিউরানের জীবনে সবই কি রূপকথার মতো? মোটেও না! বরং সাত সন্তান-সহ ১৭ নাতি-নাতনির দাদির বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে নেটমাধ্যমে বহু কটূক্তি, কটাক্ষ ভেসে এসেছে তাঁর দিকে। বাদ যাননি শেরিলও। ২৪ বছরের কিউরানকে জীবনসঙ্গী করার জন্য কম কটু মন্তব্য শুনতে হয়নি তাঁকে।

কটূক্তি শুনলেও তা নিয়ে মাথা ঘামাতে নারাজ কিউরান। তিনি বলেন, ‘‘বহু লোক আমাদের ঘৃণা করেন। অনেকে এমনও বলেছেন যে আমি আমার দাদির সঙ্গে ডেটিং করেছি। তবে আমি মনে করি আমরা আর পাঁচটা দম্পতির থেকে কোনও ভাবেই আলাদা নই। প্রেম তো প্রেমই!’’

অনেকে আবার বলেছেন, সম্পত্তির লোভেই শেরিলে সঙ্গে প্রেম এবং বিয়ে। তবে সে সব মন্তব্যও গায়ে মাখেননি কিউরান। তাঁর দাবি, ‘‘আমাদের সম্পর্ক নিয়ে এটাই সবচেয়ে ভুল ধারণা রয়েছে। শেরিলের সম্পত্তির লোভেই আমি ওকে ব্যবহার করছি।’’ কিউরানের আরও দাবি, ‘‘এ সম্পর্ক আত্মিক। যে অবস্থাতেই থাকি না কেন, আমাদের মধ্যে এমন টান রয়েছে যে সব সময়ই একে অপরকে পাশে পাই।’’

২৪ বছরের কিউরানের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে নিজের আত্মীয়দের কটূক্তি শুনতে হয়েছে শেরিলকেও। গোড়ায় তো তাঁদের সম্পর্ক মেনে নিতে পারেননি তাঁরা। তবে কিউরানের মতোই তিনি সে সব ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়েছেন। বরং কিউরানের সঙ্গে সম্পর্ককে ‘অন্য রকমের’ এবং ‘অসাধারণ’ বলে মনে করেন তিনি। শেরিলের কথায়, ‘‘কিউরান খুবই সহানুভূতিশীল। আর ভীষণ আবেগপ্রবণ, এমনটা আমি কখনও অন্য পুরুষের মধ্যে পাইনি। আমার খুবই খেয়াল রাখে। কিউরান অসাধারণ মানুষ!’’

শুধুমাত্র আত্মিক সম্পর্ক নয়, তাঁদের যৌনজীবনও দুর্দান্ত উপভোগ করছেন বলে জানিয়েছেন দম্পতি। নিজের সন্তানের থেকেও কমবয়সি একটি পুরুষের সঙ্গে শেরিলের সম্পর্ক কেমন? তা নিয়ে কম কৌতূহল নেই। তবে কিউরানের দাবি, দু’জনার রসায়ন অসাধারণ। তিনি বলেন, ‘‘প্রতি বারই আগের থেকে আরও দুর্দান্ত সম্পর্ক হচ্ছে আমাদের। আর সেটাই তো স্বাভাবিক। আমার তো অসাধারণ লাগছে।’’

এ বার নিজেদের পরিবারে নতুন অতিথিকে স্বাগত জানাতে চাইছেন শেরিল এবং কিউরান। তবে সে চেষ্টা করলেও বয়সের জন্য এখনও পর্যন্ত সফল হননি বলে জানিয়েছেন শেরিল। এর পর গর্ভদাত্রীর খোঁজ শুরু করেছেন তাঁরা। কিউরান বলেন, ‘‘আমরা সারোগেসি চাইছি। তবে অনেক সময়ই দেখেছি যে সারোগেট মায়ের থেকে সন্তানের জন্মের পর এতে আইনি ঝামেলায় জড়িয়ে পড়েছেন অনেকে। সে জন্য এমন সারোগেসি চাইছি, যাতে ঝামেলা না হয়।’’

কিউরান বলেন, ‘‘কেউ টাকার লোভে আমাদের সন্তানের জন্য গর্ভধারণ করবে, এটাও চাই না। তা ছাড়া, আমদের তো তেমন আর্থিক সামর্থ্যও নেই!’’


বয়সের ফারাক থাকলেও আর পাঁচটা দম্পতির মতোই নিজেদের মধ্যে প্রেম জিইয়ে রেখেছেন শেরিল এবং কিউরান। বরং প্রতি দিনই যেন প্রেম উদ্যাপন করছেন দু’জনা। রহস্যটা কী? লাজুক মুখে শেরি বলেন, ‘‘প্রেমের খোঁজ করবেন না। কারণ এক সময় প্রেমই আপনাকে খুঁজে নেবে। আমি নিজের কথা বলতে পারি। কখনও প্রেম খুঁজিনি। তা নিজেই ধরা দিয়েছে। আর সত্যিই তা অসাধারণ!’’












