জনতার খবর ডেস্কঃ ঢাকার উত্তরায় বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের গার্ডার পড়ে পাঁচজন নিহত হওয়ার ঘটনায় পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট আবেদন করেছেন সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী।
আইনজীবী জাকারিয়া খানের পক্ষে আইনজীবী এবিএম শাহজাহান আকন্দ মাসুম বুধবার হাইকোর্টে এই আবেদন করেন।
রিটে নিহত প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য ক্ষতিপূরণ বাবদ এক কোটি টাকা করে মোট পাঁচ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে পরিবারের জন্য।পাশাপাশি বিআরটি গত পাঁচ বছরে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পে কী ধরনের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে, সে বিষয়ে একটি প্রতিবেদন তলব করার আদেশ চাওয়া হয়েছে।
এদিকে, রাজধানীর উত্তরায় গার্ডার দুর্ঘটনার পরও, নিরাপত্তা বেষ্টনী দেয়া হয়নি বিআরটি প্রকল্পে। ফলে এখনো ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন।
মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন এবং ডিএনসিসি মেয়রের নির্দেশনার পর প্রকল্পের কাজ বন্ধ রয়েছে। তবে মেগা প্রকল্প নির্মাণের ক্ষেত্রে কোনো ধরণের কমপ্লায়েন্স মানছে না বিআরটি। বিমানবন্দর সড়কে উড়ালসড়কের কাজ বন্ধ থাকায় সড়কের মাঝখানে একটার ওপরে আরেকটা স্তূপ করে গার্ডার রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনাস্থলের পাশে ক্রেন ও গার্ডার পড়ে আছে। বিভিন্ন জায়গায় নির্মাণসামগ্রী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। কংক্রিটের স্ল্যাব থেকে লোহার রডও বেরিয়ে রয়েছে। সড়কে বালুর স্তূপ ঢেকে রাখা হয়নি। এতে বাতাসে বালু উড়ছে।
সোমবার উত্তরায় নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের গার্ডার প্রাইভেটকারের ওপর পড়ে পাঁচ জন নিহত হয়। তাদের মধ্যে তিনজন একই পরিবারের সদস্য। এছাড়া আহত দুইজনকে ভর্তি করা হয় ক্রিসেন্ট হাসপাতালে। হতাহতরা বৌভাতের অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফিরছিলেন।
ওই ঘটনায় নিহতদের পরিবার উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি মামলা করেছ। চীনা ঠিকাদার কোম্পানি, ক্রেইন চালক এবং প্রকল্পের নিরাপত্তার দায়িত্বপ্রাপ্তদের অবহেলায় এই প্রাণহানি হয়েছে বলে সেখানে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার পরের দিন সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এ প্রকল্পের কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।












