অনলাইন ডেস্কঃ ফয়সাল, মিঠু, হযরত আলী এবং শামসুল আলম। সম-বয়সী এই চারজন অল্প দিনে কোটি টাকা কামানোর নেশায় ইয়াবা বিক্রি শুরু করেছিলেন। কয়েকদিন ভালোই চলছিলো তাদের ব্যবসা। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ালো গোয়েন্দা পুলিশ। এখন তাদের ঠিকানা জেল হাজত।
গ্রেফতারের পর তারা জানায়, মিয়ানমার থেকে অবৈধ পথে আসা ইয়াবা কক্সবাজারে বিক্রি হয় মাত্র ৫০ টাকায়। সেই ইয়াবা কিনে ঢাকায় এনে বিক্রি করে প্রতি পিচ আড়াইশো থেকে তিনশো টাকায়। আর এই ইয়াবার চালান ঝক্কি-ঝামেলা ছাড়ায় ঢাকায় পৌঁছে যায় কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে।
সম্প্রতি রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই চারজনকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান বিভাগ। এই সময় তাদের কাছ থেকে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ঢাকায় আনা একটি সাব-মার্সিবল পাম্প জব্দ করা হয়। পাম্পের ভেতরেই ছিলো ১২ হাজার পিচ ইয়াবা।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার মো. মশিউর রহমান বলেন, বাংলাদেশে ইয়াবা বানানো হয় না। মিয়ানমার থেকে অবৈধ পথে কক্সবাজারে আসা ইয়াবাগুলো বিভিন্ন কৌশলে সেগুলো সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে। আমাদের গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধির কারণে এসব কৌশলের অনেক বিষয় আমরা ইতোমধ্যে উদঘাটন করেছি। কখনও পেটে করে, কখনও নারিকেল বা কমলার ভেতরে আবার কখনও অতি প্রয়োজনীয় জিনিসের ভেতরে বহন করে বিক্রি করছে এসব ইয়াবা। তেমনি এবার ধরা পড়লো সাব-মার্সিবল পাম্পের ভেতরে করে ঢাকায় আনা একটি চক্র। এরা দীর্ঘদিন ধরে এমন কাজ করে আসছিলো। তবে তাদের সব চেয়ে বড় সহজলভ্য কাজ ছিলো, এসব ইয়াবা তারা পাম্পের ভেতরে ভরে সেগুলোকে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে সারাদেশে ডেলিভারি দিতো।
তিনি বলেন, কুরিয়ার সার্ভিসগুলো মালামাল আনা নেওয়ার সময় কি ধরণের মালামাল নেওয়া হচ্ছে সেটি যাছাই করে না। তাই ভবিষ্যতে কুরিয়ার সার্ভিসগুলোকে আরও বেশি সতর্ক না হলে তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন এই গোয়েন্দা কর্মকর্তা। সেই সঙ্গে গ্রেফতার আসামিদের রিমান্ডে এনে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কিনা সেটি খতিয়ে দেখবে পুলিশ।
সূত্রঃ বাংলা ভিশন।












