গত বছরের শেষের দিকে অ্যান্টার্কটিকায় একসাথে প্রায় ১০ হাজার পেঙ্গুইন ছানার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাদের পায়ের নিচে বিপুল পরিমাণ বরফ গলে গিয়ে তারা বরফ পানিতে জমে ও ডুবে মারা যায় বলে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন।
ঘটনাটি মহাদেশের পশ্চিমে বেলিংশউসেন সাগরের সম্মুখভাগে একটি এলাকায় ঘটে। এটি স্যাটেলাইট দ্বারা রেকর্ড করা হয়েছিল।
ব্রিটিশ অ্যান্টার্কটিক সার্ভে (বিএএস) থেকে ড. পিটার ফ্রেটওয়েল বলেছেন, এই ঘটনা আসন্ন দিনের একটি পূর্বাভাস।
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে অ্যান্টার্কটিকার বরফ গলে যাওয়ায় এ শতাব্দীর শেষ নাগাদ সেখানে বাস করা এম্পেরর পেঙ্গুইনের প্রায় ৯০ শতাংশই বিলুপ্ত হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
ড. পিটার ফ্রেটওয়েল বলেন, পেঙ্গুইনরা তাদের প্রজনন চক্রের জন্য সামুদ্রিক বরফের উপর নির্ভর করে। এটি একটি স্থিতিশীল প্ল্যাটফর্ম, যা তারা তাদের বাচ্চাদের বড় করার জন্য ব্যবহার করে। কিন্তু যদি সেই বরফ প্রয়োজনমত বিস্তৃত না হয় বা দ্রুত ভেঙে যায়, এই পাখিগুলো সমস্যায় পড়ে।
তিনি আরও বলেন, আশা আছে: আমরা আমাদের কার্বন নিঃসরণ কমাতে পারি যা উষ্ণায়নের কারণ হচ্ছে। কিন্তু যদি আমরা তা না করি তবে আমরা এই আইকনিক, সুন্দর পাখিদের বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাব।
ফ্রেটওয়েল এবং তার সহকর্মীরা কমিউনিকেশনস আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট জার্নালে এই মৃত্যু সম্পর্কে রিপোর্ট করেছেন।
বিজ্ঞানীরা বেলিংশউসেন সাগর সেক্টরে পেঙ্গুইনের পাঁচটি কলোনি ট্র্যাক করেছেন- রথসচাইল্ড আইল্যান্ড, ভার্ডি ইনলেট, স্মাইলি আইল্যান্ড, ব্রায়ান পেনিনসুলা এবং ফ্রোগনার পয়েন্টে।
ইইউ-এর সেন্টিনেল-২ স্যাটেলাইট ব্যবহার করে, তারা মলমূত্র থেকে পেঙ্গুইনের কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম হন, যা পেঙ্গুইনেরা বরফের উপর ফেলে গিয়েছিলো। এই বাদামী দাগ মহাকাশ থেকেও দৃশ্যমান।
দক্ষিণ গোলার্ধে শীতকাল আসার সাথে সাথে প্রাপ্তবয়স্ক পাখিরা মার্চের কাছাকাছি সমুদ্রের বরফে লাফ দেয়। তারা সঙ্গম করে, ডিম দেয়, সেই ডিম থেকে বাচ্চা ফোটায় এবং বাচ্চারা বড় না হওয়া পর্যন্ত তাদের লালনপালন করে।
এটি সাধারণত ডিসেম্বর-জানুয়ারির কাছাকাছি সময়ে ঘটে, যখন নতুন পাখিরা সমুদ্রে চলে যায়।
তবে বিজ্ঞানীরা এই বাচ্চাগুলোর সাঁতার শেখার জন্য প্রয়োজনীয় পালক ওঠার আগেই তাদের পায়ের নিচের বরফ গলে যেতে দেখেছেন।
এর ফলে চারটি কলোনি প্রজনন করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। রথসচাইল্ড দ্বীপে শুধুমাত্র সবচেয়ে উত্তরের সাইটটিতে কিছু সাফল্য দেখা যায়।
২০১৬ সাল থেকে অ্যান্টার্কটিকে সামুদ্রিক বরফের পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে মহাদেশটিতে বরফ পানির পরিমাণ রেকর্ড পরিমাণ কমে গেছে।












