জনতার খবর ডেস্কঃ অবিভক্ত ঢাকার সবশেষ মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকার অসামান্য অবদানের মাঝে উল্লেখযোগ্য একটি ছিলো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা। ভারতে বাবরি মসজিদে হামলার সময় ঢাকায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে তাঁর ছিলো অনেক বড় অবদান। একইসংগে ভিন্ন রাজনৈতিক আদর্শের মানুষের কাছেও তিনি বন্ধুসুলভ ছিলেন। যা বর্তমান রাজনীতিতে বিরল বলে মন্তব্য করেছেন গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকী।
বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকা’র ২য় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাভিশনকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
জোনায়েদ সাকী বলেন, ‘সাদেক হোসেন খোকা বাংলাদেশের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। সেই সময়ে তিনি কেবল মুক্তিযুদ্ধই করেছেন তেমন নয়, মানুষের সার্বিক মুক্তির জন্য তিনি লড়াইয়ের মধ্যে ছিলেন। একটা প্রগতিশীল রাজনীতিতেও ছিলেন। পরবর্তীকালে তিনি বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন। কিন্তু বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য তাঁর নিজের মধ্যে রক্ষা করেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘সাদেক হোসেন খোকা খুব গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেছিলেন যখন বাবরি মসজিদ ধ্বংস করা হচ্ছিলো। এখানে বাংলাদেশের ভেতরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর হামলার আশংকা দেখা গিয়েছিলো এবং দুই-একটি হামলাও হয়েছিল। সেই সময় তিনি ঢাকায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। যে কারণে বড় কোনো সংঘাত বা সাম্প্রদায়িক হামলা হতে পারেনি।’
সাদেক হোসেন খোকা এই কাজ করতে পেরেছিলেন জনগণের সংগে তিনি সম্পর্ক রক্ষা করতেন বলেই। তাঁর জনপ্রিয়তা যেমন ছিলো বিশাল জনভিত্তিও ছিলো। কারণ জনগণের বিভিন্ন অংশের চাহিদা সেগুলো তাঁর দল থেকে বা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় হলেও পূরণ করতেন বলেই সম্ভব হয়েছে বলে মন্তব্য করেন এই তরুণ বাম রাজনীতিবিদ।
জোনায়েদ সাকী আরও বলেন, ‘আরেকটা গুণ সাদেক হোসেন খোকার ছিলো, যেটা আমরা আমাদের সিনিয়র রাজনীতিবিদদের কাছ থেকে শুনেছি। তিনি কেবল নিজের দলের নেতাকর্মীদের সংগেই নয়, অন্যান্য দলের নেতাদের সংগেও একটি ভালো সম্পর্ক তিনি রাখতেন। অর্থাৎ আমাদের দেশের রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে যে রাজনৈতিক পার্থক্য থাকলে ব্যক্তিগত পর্যায়ের সম্পর্কেও যে ঘাটতি হয় কিংবা সামাজিক পর্যায়ে মেলামেশাও বন্ধ হয়ে যায় এটাকে সাদেক হোসেন খোকা কখনোই প্রশ্রয় দেননি। তিনি তাঁর দলের মধ্যে এবং দলের বাইরে অন্য দলেও যে বন্ধুত্ব থাকতে পারে সেটি তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। যার কারণে তাঁর মৃত্যুতে সবার মাঝেই শূণ্যতা অনুভব হয়।’
তিনি বলেন, ‘একজন মুক্তিযোদ্ধা, একজন গণভিত্তিসম্পন্ন লোক ছিলেন তিনি। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় তিনি অনন্য ভূমিকা রেখেছিলেন। সুতরাং রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা তো তাঁর নেতাকে সম্মান করেই। দলের বাইরেও কিছু নেতা, অন্য দল ও সাধারণ মানুষের কাছে তিনি সম্মানিত হয়ে ওঠেন।’
‘সাদেক হোসেন খোকার যে সম্মান ছিলো, গণভিত্তি ছিলো আজকে মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার আন্দোলনে তাঁর অনেক প্রয়োজন ছিলো। তিনি আজ বেঁচে থাকলে নিশ্চই তাঁর সমর্থক জনগোষ্ঠী ও রাজনৈতিক সমর্থন নিয়ে মানুষের মৌলিক এই অধিকার রক্ষার আন্দোলনে এগিয়ে আসতেন। আমরা বিশ্বাস করি যারা সাদেক হোসেন খোকাকে লালন করেন তাঁর আজ মানুষের অধিকার রক্ষায় এগিয়ে আসবেন’ বলছিলেন, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনয়েদ সাকী।
সূত্রঃ বাংলা ভিশন।