জনতার খবর ডেস্কঃ চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত দেশে ১৬৫৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৭৫৮ জন নিহত হয়েছে। আহত ১১২৩ জন। নিহতদের মধ্যে ১৩২৭ জন (৭৫.৪৮%) ১৪ থেকে ৪৫ বছর বয়সী। দুর্ঘটনায় ৭২ জন শিক্ষক এবং ৬৬৯ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। মোটরসাইকেলের ধাক্কায় ১৫১ জন পথচারী নিহত হয়েছে, যা মোট নিহতের ৮.৫৮ শতাংশ। রোড সেফটি ফাউন্ডেশন ৭টি জাতীয় দৈনিক, ৫টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং ইলেক্ট্রনিক গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।
পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, দুর্ঘটনাসমূহের মধ্যে অন্য যানবাহনের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ৩৪৯টি (২১.১১%), মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনা ঘটেছে ৫৮৩টি (৩৫.২৬%), মোটরসাইকেলে অন্য যানবাহনের চাপা ও ধাক্কা দেয়ার ঘটনা ঘটেছে ৭১৫টি (৪৩.২৫%) এবং অন্যান্য কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে ৬টি (০.৩৬%)।
দুর্ঘটনাসমূহ বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৬৭২টি (৪০.৬৫%) দুর্ঘটনার জন্য মোটরসাইকেল চালক এককভাবে দায়ী। বাস চালক দায়ী ১০.৭৬% (১৭৮টি দুর্ঘটনা), ট্রাক চালক দায়ী ২৬.৭৯% (৪৪৩টি দুর্ঘটনা), কাভার্ডভ্যান-পিকআপ-ট্রাক্টর-ট্রলি-লরি চালক দায়ী ৯.৫৫% (১৫৮টি দুর্ঘটনা), প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাস চালক দায়ী ২.৭২% (৪৫টি দুর্ঘটনা), থ্রি-হুইলার (ইজিবাইক-অটোরিকশা-অটোভ্যান-নসিমন-ভটভটি-টমটম) চালক দায়ী ৫.৮০% (৯৬টি দুর্ঘটনা), প্যাডেল রিকশা ও বাই-সাইকেল চালক দায়ী ০.৫৪% (৯টি দুর্ঘটনা) এবং পথচারী দায়ী ৩.১৪% (৫২টি দুর্ঘটনা)।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ বলছে, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ৫৭৭টি (৩৪.৯০%) জাতীয় মহাসড়কে, ৫২৮টি (৩১.৯৪%) আঞ্চলিক সড়কে, ২৯১টি (১৭.৬০%) গ্রামীণ সড়কে এবং ২৫৭টি (১৫.৫৪%) শহরের সড়কে সংঘটিত হয়েছে।
দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের সংখ্যা ২৭৪৯টি। মোটরসাইকেল ১৭১৯টি, বাস ১৯৪টি, ট্রাক ৪৮১টি, কাভার্ডভ্যান-পিকআপ-ট্রাক্টর-ট্রলি-লরি ১৭২টি, মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার ৫৬টি, থ্রি-হুইলার (ইজিবাইক-অটোরিকশা-অটোভ্যান-নসিমন-ভটভটি-টমটম) ১১৩টি, এবং প্যাডেল রিকশা ও বাই-সাইকেল ১৪টি।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের মতে, দেশে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার মাত্রা ক্রমেই বাড়ছে। এসব দুর্ঘটনা মহাসড়কে বেশি ঘটছে। অধিকাংশ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটছে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ ও বাসের ধাক্কা, চাপা ও মুখোমুখি সংঘর্ষে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোটরসাইকেল চালকদের অধিকাংশই কিশোর-যুবক। এরা চরম বেপরোয়াভাবে মোটরসাইকেল চালিয়ে নিজেরা দুর্ঘটনায় আক্রান্ত হচ্ছে এবং অন্যদের আক্রান্ত করছে। বর্তমানে দেশে প্রায় ৩৫ লাখ মোটরসাইকেল চলছে। শুধু রাজধানীতেই চলছে ১২ লাখের বেশি।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জানায়, মানসম্মত গণপরিবহনের অভাব এবং যানজটের কারণে মোটরসাইকেলের ব্যবহার অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। মোটরসাইকেল ৪ চাকার যানবাহনের তুলনায় ৩০ গুণ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এজন্য গণপরিবহন ব্যবস্থা উন্নত ও সহজলভ্য করে মোটরসাইকেলের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে হবে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশসমূহ তাই করছে। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার মোটরসাইকেল আমদানী ও উৎপাদনে সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করে, প্রণোদনা দিয়ে এটিকে সস্তা ও সহজলভ্য পণ্যে পরিণত করছে। ফলে দেশের সর্বত্র কিশোর-যুবকদের হাতে অধিক গতিসম্পন্ন মোটরসাইকেলের ছড়াছড়ি।
সূত্রঃ একাত্তর টিভি।












