বামনা ( বরগুনা) প্রতিনিধিঃ
বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগ উঠেছে শ্রমিক লীগের এক নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় উত্তেজিত জনতার গণধোলাইয়ের শিকার হলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে বলে জানা গেছে।
রোববার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যা ৭ টার দিকে পাথরঘাটা থানার পুলিশ সোহাগকে উদ্ধার করে। এর আগে বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে গণধোলাইয়ের শিকার হন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোহাগ সিকদার আওয়ামী শ্রমিক লীগের নেতা দাবি করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বললেই মারধর এবং মাদক দিয়ে হয়রানি করেন। শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে হৃদয় নামের এক ব্যাক্তির একটি মোটরসাইকেল তার বাড়ির সামনে রেখে বাড়িতে গেলে সেখান থেকে সেটি চুরি করে নিয়ে যান তিনি। স্থানীয় একাধিক লোকে দেখলেও সোহাগ বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে রাত ৯টার দিকে হৃদয়ের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়ে পাশের মঠবাড়িয়া উপজেলা থেকে মোটরসাইকেলটি ফিরিয়ে আনেন তিনি। এ ঘটনার পর রোববার বিকেলে স্থানীয়রা তাকে ধরে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের কাছে দিয়ে দেয়।
তারা আরো জানায়, গত তিন মাস আগে কালমেঘা ইউনিয়নের ছোনবুনিয়া এলালার মুন্নি বেগমের বাড়িতে চুরি করে ২০ হাজার টাকা, স্বর্ণের চেইনসহ অন্য মালামাল নিয়ে যান তিনি। তখন তাকে চিনে ফেলায় মুন্নিসহ তার স্বামীকে মারধর করে রক্তাক্ত করে রাস্তায় ফেলে রাখেন তিনি।
ভুক্তভোগী মুন্নি বেগম জানান, সোহাগ সিকদার দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। তিনি এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে চুরি, মোটরসাইকেল চুরিসহ লোকজনকে হয়রানি করেন।
হৃদয় জানান, শুক্রবার তার মোটরসাইকেলটি চুরি করে নিয়ে গেলে পরে তাকে ২০ হাজার টাকা দিয়ে ফেরত নিতে হয়েছে।
স্থানীয় সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো: বাবুল মিয়া জানান, সোহাগ একজন খারাপ প্রকৃতির লোক। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় মোটরসাইকেল চুরি, মানুষের বাড়িতে চুরি এবং তার এলাকায় মাদক সরবরাহ করে আসছেন। তাকে কেউ কিছু বললেই বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম বলে পার পেয়ে যান।
পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাহ আলম হাওলাদার জানান, সোহাগের বিরুদ্ধে আগেই মোটরসাইকেল চুরির মামলা রয়েছে। পুলিশ তাকে গ্রেফতারের জন্য খুঁজছিল। ইতোমধ্যে স্থানীয়রা তাকে আটক কের থানায় সোপর্দ করেছে।










