জেলা প্রতিনিধি, ঝালকাঠি :
ঝালকাঠি-২ আসনের জামায়াত ইসলামি মনোনীত প্রার্থী শেখ নেয়ামুল করিমের নির্বাচনী প্রচারনায় নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে জেলা জামায়াত ইসলামি। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) বিকেলে তাদের ঝালকাঠি পৌরসভা কার্যালয়ে এ সম্মেলন করে দলটি।
এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জামায়াত ইসলামি মনোনীত ঝালকাঠি-২ আসনের প্রার্থী শেখ নেয়ামুল করিম। তিনি জানান, গত ৭ ডিসেম্বর নলছিটির মোলারহাট ইউনিয়নে পোস্টার লাগানোকে কেন্দ্র করে বিএনপি কর্মীরা জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। হামলার ঘটনায় সাতজন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে তিনজনকে গুরুতর অবস্থায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, হামলার পর ৮ ডিসেম্বর মানববন্ধনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টোর আশ্বাসে কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়। তবুও রাতে কর্মী কাউসারের ওপর এলোপাতাড়ি মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টা চালানো হয়।
উদ্ধারে গেলে নলছিটি উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও মোল্লারহাট ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক মনিরুজ্জামানকেও দোকানে অবরুদ্ধ করে নির্যাতন করা হয়। পরে ইউনিয়ন সভাপতি আমির হোসেন হায়দারসহ আরও চারজনকে মারধর, মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও দুইটি মোটরসাইকেল ছিনতাই করা হয়—অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, আমরা এই বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। ন্যায্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে।
হামলার প্রতিবাদে নলছিটি উপজেলা জামায়াত আজ বিকেল ৪টায় বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। গ্রেপ্তার না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
জেলা জামায়াত আমির অ্যাডভোকেট খান হাফিজুর রহমান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দুই হাজার মানুষ শহীদ হয়েছেন, হাজারো মানুষ আহত হয়েছেন—তারা আমাদের নতুন একটি বাংলাদেশ উপহার দিয়েছেন। বিগত সময়ে কথা বলার স্বাধীনতা, ভোটাধিকার, মানবাধিকার ছিল না। কিন্তু ৫ আগস্টের পর আমরা নতুন আকাঙ্ক্ষা নিয়ে সামনে আগাচ্ছিলাম। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এখনো কিছু মানুষ পেশিশক্তির আশ্রয় নিচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় নলছিটিতে আমাদের কর্মীদের উপর হামলা হয়েছে। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন—ঝালকাঠি জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট এবিএম আমিনুল ইসলাম, জেলা সেক্রেটারি মো. ফরিদুল হক, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হাই, ইসলামি ছাত্রশিবিরের জেলা সভাপতি এনামুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে দলটি।










