ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ
আজ ১০ ডিসেম্বর বুধবার দুপুরে ঝালকাঠির নলছিটি থেকে তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনের পুলিশের একটি দল গৃহকর্মী আয়েশা ও স্বামী রাব্বিকে গ্রেপ্তার করেছে। নলছিটির কয়ড়া গ্রাম থেকে ডিএমপি পুলিশের একটি দল দুপুরে তাদের গ্রেফতার করে।
পুলিশ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনারসহ পুলিশের একাধিক কর্মকর্তার একটি টিম আজ দুপুরে তাকে গ্রেফতার করে নলছিটি থানায় হস্তান্তর না করে ঢাকায় নিয়ে যান।
রাব্বি শিকদারের চাচি ও প্রতিবেশীরা জানায়, রাব্বির বাবা প্রায় ২০ বছর আগে কমর্ সংস্থানের জন্য ঢাকায় অবস্থান করেন। জন্মের পর সে কখনো বাড়িতে আসেন নি আজ সকাল ৯ টার দিকে বাড়িতে এসে উপস্থিত হন এসম সকলকে জানায় যে বাড়িতে ঘর তোলার জন্য সে গ্রামের বাড়িতে আসছেন। এসময় ৩টি ব্যাগ সহ তার স্ত্রী অপর আসামী আয়েশা বেগমও তার সাথে ছিল। এর ২ ঘন্টা পরেই ডিএমপির একটি পুলিশের দল বাড়িতে এসে তাদের গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়।
উল্লেখ্য যে, গত ৮ ডিসেম্বর সোমবার গৃহকর্মী আয়েশা, মা লায়লা ফিরোজ (৪৮) ও মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজকে (১৫) হত্যা করে মুখে মাস্ক লাগিয়ে কাঁধে একটি ব্যাগ ও স্কুল ড্রেস পরে পালিয়ে যান। নিহত নাফিসা মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত লায়লা আফরোজ (৪৮) ও তার মেয়ে নাফিসা লাওয়ালকে (১৫) শ্বাসরোধ ও ছুরিকাঘাতের মাধ্যমে খুন করা হয়েছে। লায়লা আফরোজের মরদেহের উপর ৩০টি এবং মেয়ে নাফিসার দেহে ৪টি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, গৃহকর্মী স্কুলড্রেস পরিহিত অবস্থায় দুপুর ৯টা ৩৫ মিনিটের দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। ঘটনার পর বাসা থেকে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, স্বর্ণালংকার এবং নগদ টাকাসহ গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র নিয়ে যান।
এ ঘটনায় নিহত লায়লা আফরোজের স্বামী, স্কুল শিক্ষক আ জ ম আজিজুল ইসলাম, হত্যার জন্য গৃহকর্মী আয়েশাকে দায়ী করে মামলা করেছেন। তিনি জানান, স্ত্রী ও মেয়ে হত্যার পর গৃহকর্মী তার বাসা থেকে ফোন, ল্যাপটপ এবং অন্যান্য মূল্যবান জিনিস নিয়ে পালিয়ে যায়।
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে লায়লা ও তার মেয়ের মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার সকালে তাদের গ্রামের বাড়ি নাটোর পৌরসভার দক্ষিণ বড়গাছায় নেওয়া হয়। জোহরের নামাজের পর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের মরদেহ দাফন করা হয়।










