ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ
ঝালকাঠি সদর উপজেলা নির্বাচনে দোয়াত কলমের প্রার্থী সুলতান হোসেন খানের বিরুদ্ধে মাথায় ব্যান্ডেজ ও গলায় গজফিতা দিয়ে হাত ঝুলিয়ে প্রচার প্রচারণায় অংশ নিয়ে ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও সমর্থকসহ তার আহত হওয়ার ছবি সম্বলিত পোষ্টার ও লিফলেট বিতরণ করে ভোটারদের করুণা আদায়ের চেষ্টা করছেন। এ ঘটনায় প্রতিপক্ষ (আনারস প্রতীকের) প্রার্থী খান আরিফুর রহমান নির্বাচনে আচরণ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে দোয়াত কলমের প্রার্থী সুলতান হোসেন খানের বিরুদ্ধে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দিয়েছেন।
বিভিন্ন গণমাধ্যমের ভিডিও, ছবিসহ সংবাদ ও ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল স‚ত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার রাতে ঝালকাঠি শহরের কীত্তিপাশার মোড়ে দোয়াত কলমের উঠান বৈঠকে প্রার্থী সুলতান হোসেন খানসহ আইনজীবী এসএম রুহুল আমিন রিজভী আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন উস্কানিম‚লক বক্তব্য দেয়। এর প্রেক্ষিতে স্থানীয় জনতা প্রতিবাদ জানিয়ে তাদের পিটুনি দেয়। সে সময় ফজলুল হক মিলু নামে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা স্থানীয়দের ইটের আঘাতে মাথায় রক্তাক্ত জখম হন।
কিন্তু প্রার্থী সুলতান হোসেন খানের মাথায় কোন রক্তাক্ত জখম হননি। পরে প্রার্থী সুলতান হোসেন খানসহ তার কয়েকজন সামর্থক সামন্য আহত অবস্থায় ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। সে সময়কার তার হাসপাতালের ভর্তির ছবি ও ভিডিও বিভিন্ন গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। সেদিন ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক মো.নাঈম সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, প্রার্থী সুলতান হোসেন খানের কাঁধে ও পায়ে আঘাত পেয়েছেন। তারা স্বেচ্ছায় বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। এদিকে গতকাল
শুক্রবার দুপুরে দোয়াত কলমের প্রার্থী সুলতান হোসেন খানকে মাথায় ব্যান্ডেজ ও গলায় গজফিতা দিয়ে হাত ঝুলিয়ে গাভারামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের পোষন্ডা গ্রামে প্রচার প্রচারণা চালতে দেখা যায়। মাথায় রক্তাক্ত জখম না হওয়া সত্বেও তিনি মাথায় ব্যান্ডেজ করে ভোটারদে মন জয় করার চেষ্টা করছেন। অথচ আগের দিন বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি দুটি এ্যাম্বুলেন্সযোগে তাঁর সমর্থকদের নিয়ে ঝালকাঠি শহরের কামারপট্টির বাসায় অবস্থান নেন। এসময় সাংবাদিকদের সামনে তিনি নিজেকে অসুস্থ অবস্থায় প্রকাশ করেন। এ বিষয়টি নিয়ে শহরে ও ইউনিয়ন পর্যায়ে তোলপাড় চলছে।
এ বিষয়ে সুলতান হোসেন খানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি সারা দেননি। তবে তার ঘনিষ্ঠ সমর্থক আইনজীবী এস এম রুহুল আমিন রিজভী বলেন, সুলতান হোসেন খানের মাথায় বরিশালের চিকিৎসকদের পরামর্শে সিটিস্ক্যান করে ব্যান্ডেজ করা হয়েছে। প্রতিপক্ষরা তাকে পিটিয়ে জখম করে। এ বিষয়ে আনারস প্রতীকের প্রার্থী খান আরিফুর রহমান বলেন, সুলতান হোসেন খান কোন আহত না হয়েও মাথায় ব্যান্ডেজ পেঁচিয়ে ভোটারদের কাছে করুণা আদায়ের চেষ্টা করছেন। তিনি ভ‚য়া পোস্টার ও লিফলেট বিতরণ করে আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন। আমি এ বিষয়ে জেলা রিটানিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দিয়েছি।
এ বিষয়ে জেলার রিটানিং কর্মকর্তা মো. ছালেক বলেন, একটি সহিংসতার ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। মামলা দুটি আদালতে বিচারাধীন। নির্বাচন চলাকালীন সময়ে এ ধরনের পোস্টার দেওয়ালে লাগানো ও হ্যান্ডবিল বিতরণ করার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে আমি আনারস প্রতীকের প্রার্থীর একটি অভিযোগ পেয়েছি। খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি।










