ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ
দক্ষিনাঞ্চলের জেলার মধ্যে আমড়া চাষ ঝালকাঠির জেলার কৃষক পরিবারের মধ্যে একটি অর্থনৈতিক ফসল। জেলায় ছোট-বড় বিভিন্ন আয়োতনে আমড়ার বাগান রয়েছে। এই চাষাবাদের উপরে নির্ভর করছে কৃষক পরিবারের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি। আকার ও অবস্থান ভেদে ছোট চাষী পরিবার থেকে গ্রাম অঞ্চলে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল পরিবারও আমড়া চাষ করছে। এর ফলে প্রতিনিয়ত সম্প্রসারিত হচ্ছে আমড়া চাষ। ঝালকাঠি জেলায় কৃষিবিভাগের ২ বছর পূর্বের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ৬৫০ হেক্টরে আমড়া চাষ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত প্রায় ৮০০ হেক্টরে আমড়া চাষ হচ্ছে। এবছর আমড়ার ফলন মোটামুটি ভালো হয়েছে।
জেলার গ্রাম অঞ্চলে পুকুরের পাড় বাড়ির আঙ্গিনা ও মাছেরর ঘেরের চারিপাশে আমড়ার বাগান গড়ে উঠেছে। অনেক কৃষক পরিকল্পিতভাবে বৃহৎ পরিসর নিয়ে আমড়া চাষ করছে। বর্তমানে পরিকল্পিত আমড়া চাষাবাদের আমড়া বাগানে পরিকল্পিতভাবে আমড়ার সাথে মালটা, কমলা এবং বেডের পাশের নলায় মাছ চাষ করে প্রতিবছর আর্থিক ভাবে সচ্ছলতা পাচ্ছে। কৃষিবিভাগের হিসাব মতে এ জেলায় হেক্টরপ্রতি ১৪ মেট্রিক টন করে আমড়ার ফলন হচ্ছে। অভাবী কৃষক আমড়ার ফলন পরিপক্ক হওয়ার পূর্বেই বাজারজাত করছে কিন্তু এক শ্রেনীর বড় আমড়া চাষীরা তাদের বাগানের ফলপরিপক্ক হওয়ার পরে বাজারজাত করছে। এরফলে তারা উৎপাদন বেশি পাচ্ছে এবং বাজার দামও বেশি পাচ্ছে। বর্তমানে বাজারের বিশ টাকা কেজি ধরে আমড়া বিক্রি হচ্ছে আরও ১ মাস পরে পরিপক্ক আমড়া ৩০ টাকা কেজি ধরে বাজারজাত করে আর্থিকভাবে লাভবান হবে।
বর্তমানে আমড়া বাগানের একই বেডে আমড়ার সাথে মালটা, কমলা ও লেবুর মত ফসল চাষ করে বহুমুখি চাষাবাদে ঝুকে পড়েছে পরিকল্পিত আমড়া চাষিরা। আমড়া চাষের জন্য জমির মাটি নূন্যতম ৮ ফুট থেকে ১০ ফুট পর্যন্ত প্রশস্ত বেড করে বাগান তৈরি করছে। এখানে একই বেডে মালটাসহ অন্যান্য ফলের বহুমুখি চাষাবাদ করে কৃষকরা লাভবান হচ্ছে। আমড়া মালটা সহফল জাতীয় বাগানে যাহাতে পানিবৃদ্ধি পেলেও বাগানের গাছ যাতে ডুবে না যায় সেই হিসাব করেই মাটি কেটে উঁচু করে বেড করা হয়। এই বেড করার কারণে পাশের সৃষ্ট নালায় অনেক কৃষকই একসঙ্গে বছর ব্যপি মাছ চাষ করে থাকেন। এই চাষাবাদে কৃষক ভূমিহীন কৃষক পরিবারের অনেকেরই স্থায়ী ও খন্ডকালীন কর্মসংস্থান হয়। আমড়ার ফলন তোলার পরে আমড়া চাষীরা পরবর্তি বছরের চাষাবাদ শুরু করে দেয় এবং ভালো ফলন পাওয়ার জন্য বেঢর পাশের নালা থেকে মাটি তুলে নতুন করে আমড়া বাগানে মাটির আস্তরন দিয়ে রাখে। ফলন উত্তলনের সময় ও ঝড় বৃষ্টির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত আমাড়া গাছের ভাঙ্গা ডালের ক্ষত স্থানে চাষীরা চুন, তুতেঁ ও রাসায়নিক দ্রব্য মিশিয়ে পুটিং করে গাছের ক্ষত স্থানে লাগিয়ে গাছের রোগবালাই প্রতিরোধ করে। নতুন করে ফলনের মুকুল ধরার সময় চাষীরা বেডের আগাছা পরিস্কার করে রাখে।
আমড়া অত্যন্ত পুষ্টিগুন সমৃদ্ধ। মানুষ কাঁচা আমড়া অতিথি আপ্যায়নসহ মুখরোচক স্বাধহিসাবে খেয়ে থাকে। এছাড়াও আমড়া তরকারি হিসাবে ব্যবহার করে মাছের সাথে সুস্বাদু খাবার রান্না করে খায়। আমাড়া এক মাস পর্যন্ত উত্তলনের পরে সংরক্ষন করা যায় এবং পেয়ারা মত এরা দ্রুত পচনশীল নয়। পাকা আমড়া দিয়ে মোরব্বাসহ মিষ্টি জাতীয় খাবার তৈরি করা যায়।
ঝালকাঠি সদর উপজেলার হিমানন্দকাঠি গ্রামের বাসিন্দা ও নবগ্রাম ইউনিয়নের সাবেক চেয়াম্যান মুক্তিযোদ্ধা অলিউর রহমান হিরু জেলার সবচেয়ে বড় চাষী। তার ২৫ থেকে ৩০ বিঘা এলাকা জুড়ে একসাথে রয়েছে আমড়া বাগান। ৫ বছর পূর্বে তিনি তার আমড়া বাগানের বেডে আমড়া চাষের সাথে ৮ বিঘায় মালটা, চাইনিজ কমলাসহ বিভিন্ন ফলের চাষ করে বহুমখি প্রকল্প গড়েছেন। তার আমাড়া বাগানের বেডের নালায় ৮ বিঘায় দেশি ও সাদা জাতীয় মাছের চাষ করছে। তার চাষাবাদের খামারে ১৫ জন শ্রমিকের স্থায়ী কর্মসংস্থান হয়েছে এবং এদের দৈনিকখাওয়া দাওয়ার খরচ ব্যতিত মাসিক ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা করে বেতন দিতে হচ্ছে। আমাড়া মৌসুমে ফলন উত্তোলনের সময় থেকে পরবর্তি ৩ মাস আরও ২৫-৩০ জন শ্রমিকের খন্ডকালিন কর্মসংস্থান হচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধা অলিউর রহমান হিরু জানান তার এই খামার থেকে বছরে ৩০ থেকে ৪০ লক্ষ টাকা নীট আয় হচ্ছে। এই কৃষি খামারে কাজ করা স্থায়ী শ্রমিকদের মধ্যে রিপন মন্ডল জানান তারমত এই খামারে আরও ১৫ জন স্থায়ী কর্মচারী রয়েছে।
ঝালকাঠি সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রিফাত সিকদার জানান জেলায় ক্রমান্নয়ে আমড়া চাষ সম্পসারিত হচ্ছে এবং অনেক আমড়া চাষীরাই এর সাথে আরো ফলের চাষ করে বহুমুখি কৃষি খামার সৃষ্টি করে গ্রামীন অর্থনৈতিক ভীত শক্তিশালী করছে। ঝালকাঠি জেলায় ৭৫০ হেক্টরে আমড়া চাষ হচ্ছে এবং এর হেক্টর প্রতি উৎপাদন ১৪ মেট্রিকটন করে হচ্ছে।










