ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ ঝালকাঠিতে ভুয়া সনদপত্রে ৩৮ বছর শিক্ষকতা। এস এস সি পাসের সনদপত্র জালিয়াতি ও ভুয়া নিয়োগপত্র ব্যবহার করে ১৯৮৩ সাল থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক পদে চাকরি করে আসছেন এক শিক্ষিকা। ভুয়া সনদে শিক্ষকতায় ৩৮ বছর পার করেছেন এই শিক্ষিকা।
এ বিষয় সদর উপজেলার দিবাকর কাঠি গ্রামের বাসিন্দা মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায় ১৯৮০ সালে এস এস সি পাসের সনদপত্রে ১৯৮৩ সালে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ নেন লাইজু আক্তার মনি। অভিযোগের ভিত্তিতে লাইজু আক্তার মনির সনদপত্র যাচাইয়ের জন্য যশোর বোর্ডে প্রেরণ করলে যশোর বোর্ড কতৃপক্ষ জানান তার সনদপত্রটি সঠিক নয়।
তাছাড়া তার বাবার মৃত্যু হয় ২০০০ সালে কিন্তু তার ১৯৮০ সালের সনদপত্রে পিতা মৃত মোঃ মোকসেদ আলী মিয়া লেখা রয়েছে। তার বাবার নাম মুলত মোকসেদ আলী রাড়ী। লাইজু আক্তার মনির বাবার রেজিস্ট্রিকৃত দলিলে বাবার নাম মোকসেদ আলী রাড়ী, তার মায়ের জাতীয় পরিচয় পত্রে স্বামীর নাম মোকসেদ আলী রাড়ী এবং তার ভাই শাহ আলম রাড়ীর জাতীয় পরিচয় পত্রে বাবার নাম মোকসেদ আলী রাড়ী রয়েছে।
সূত্রে জানা যায় ১৯৮৩ সালে প্রাথমিক শিক্ষা মহাপরিচালকের পক্ষে একজন সহকারী পরিচালকের স্বাক্ষরিত আদেশবলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ নেন লাইজু আক্তার মনি। তার নিয়োগ পত্রে লেখা রয়েছে শিক্ষামন্রী মহোদয়ের নির্দেশ/অনুমোদন সম্বলিত লাইজু আক্তার মনির একটি আবেদন ও কাগজপত্র প্রেরিত হইল তাহাকে এলাকাধীন কোন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ শর্ত সাপেক্ষে ২৮/৭/৮৩ তারিখের মধ্যে নিয়োগ করে পরিদপ্তরকে অবহিত করতে বলা হয়েছে কিন্তু তার যোগদান এর ১ মাস পরে অর্থাৎ ১০/৮/১৯৮৩।
১৯৮৩ সালে ঝালকাঠিতে আরও অনেক শিক্ষক নিয়োগ হয়েছে যা পত্রিকার বিজ্ঞাপন ও নিয়োগ বোর্ড কতৃক নিয়োগ করা হয়। প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সূত্র মোতাবেক এই নিয়োগ পত্রটি বৈধ নয়। এছাড়াও তার নিয়োগপত্র, সার্ভিস বই ও সনদপত্র তিন ধরনের নাম রয়েছে। সার্ভিস বই অনুযায়ী নাম লাইজু আক্তার, নিয়োগ পত্রে লাইজু আকতার (মনি) ও সনদপত্রে নাম লায়জু আখতার রয়েছে।
অভিযোগ হওয়ায় চাকরি হারানোর ভয়ে ইতোমধ্যে সেচ্ছায় অবসরে যাওয়ার দরখাস্ত দিয়েছেন এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে পেনশন সুবিধা নেয়ার পায়তারা চালিয়ে যাচ্ছেন লাইজু আক্তার মনি।
এ বিষয় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আমিনুল ইসলাম ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মঈনুল ইসলাম জানান সকল কাগজপত্র যাচাই বাছাই করে এবং তদন্ত করে যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।










