ঝালকাঠি প্রতিনিধি
ঝালকাঠি সদর উপজেলার নথুল্লাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে ভুয়া সনদ ব্যবহার করে চাকরি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পর শিক্ষা অধিদপ্তর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।
অভিযোগকারী মো. হাসানুর রহমান মিলু লস্কর অধিদপ্তরে জমা দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করেছেন, আলমগীর হোসেন ঝালকাঠি পৌরসভা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষক পদে কর্মরত অবস্থায় প্রতিষ্ঠান হতে অনুমতি না নিয়ে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৭ সালে বি এড এবং ২০০৮ সালে এম এড ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে আদালত ও সরকার এসব সনদ অবৈধ ঘোষণা করলেও তিনি তা ব্যবহার করে চাকরি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি বেতন-ভাতা গ্রহণ করে আসছেন।
অভিযোগে বলা হয়, তিনি ২০১৫ সালে ওই ভুয়া সনদের ভিত্তিতে নথুল্লাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ পান এবং এমপিওভুক্ত হন। পরে ২০২০ সালে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নতুন করে বি এড ডিগ্রি অর্জন করলেও ২০২৪ সালে শিক্ষা অধিদপ্তরের নিরীক্ষা পরিদর্শনে সেই সনদ উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হন।
বিষয়টি তদন্তে নিতে ২০ আগস্ট শিক্ষা অধিদপ্তর একটি স্মারক জারি করেছে (স্মারক নং: ৩৭.০২.০০০০.১০৭.৩১.৩৯১.২০২৫-১৬৮৭)। এতে ঝালকাঠির জেলা শিক্ষা অফিসারকে অভিযোগটি তদন্ত করে সুস্পষ্ট
মতামতসহ প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উপপরিচালক (বরিশাল অঞ্চল), উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, বিদ্যালয়ের সভাপতি, প্রধান শিক্ষক, অভিযুক্ত শিক্ষক এবং অভিযোগকারীকে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে।
অভিযোগকারী মিলু লস্কর বলেন, ভুয়া সনদ ব্যবহার করে একজন শিক্ষক কিভাবে চাকরি করছেন। এতে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করছেন তিনি। এটি শুধু অনিয়ম নয়, সরকারের অর্থের অপব্যবহার। তাছাড়া তার বিরুদ্ধে আরো নানা অভিযোগ আছে তিনি ক্লাসে অমনোযোগী ভালোভাবে পাঠদান করান না। শিক্ষার্থীরাও তার টিচিংয়ে অসন্তুষ্ট। তিনি বিভিন্ন বিষয়ে স্কুলে বেশ প্রভাব খাটান। সুষ্ঠ তদন্তে তার উপযুক্ত বিচার হবে বলে আশা করি।
অভিযুক্ত সরকারি প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর হোসেন বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি দাবি করেন, চাকরিজীবনের প্রতিটি ধাপ যথাযথভাবে সম্পন্ন করেছেন এবং এর সব ডকুমেন্ট তার কাছে সংরক্ষিত আছে। আলমগীর হোসেন আরও বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তার সত্যতা নেই। অধিদপ্তর তদন্ত করলে সবকিছু পরিষ্কার হবে। তদন্তের ভিত্তিতে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে আমি সেটিই মেনে নেব।










