ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ
আজ আমাদের ন্যারাপোড়া, কাল আমাদের দোল পূর্ণিমাতে চাঁদ উঠেছে বল হরিবল এই গান গেয়ে
নেচেগেয়ে বুড়ির নামে বুড়ির ঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। জেলার রাধাগোবিন্দের সকল মন্দিরে বুধবার রাত ৮টার পর দোল দশমী উপলক্ষে এই উৎসব পালন করেছে হিন্দু সম্প্রদায়।
বুড়ির ঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়ার পূর্বে শ্রী শ্রী নারায়নের পূজা অর্চণা করা হয়েছে। বুড়ি অধর্মের প্রতিক তাকে বিনাশের মাধ্যমে ধর্ম প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে এই উৎসবের আয়োজন বলে হিন্দু শা¯্রে উল্লেখ রয়েছে। বুড়ির ঘর পোড়ানো বা হলিকা উৎসব নামে এই আয়োজনের নামাকরণ করা হয়ে থাকে।
কথিত রয়েছে হিরণ্যকশিকু নামে দেবতার বরপ্রাপ্ত রাজা হরিনাম শুনতে পারতো না এবং কেউ উচ্চারণ করলে তাকে কঠোর দন্ড দিত। তার ছেলে প্রোল্লাদ হরিনাম ভক্ত ছিল এবং স্বপনে সয়নে শুধু হরিনাম জপ করত। তার বাবা হিরণ্যকশিকু প্রোল্লাদকে নানা ধরণের ভয়ভীতিসহ সকল ধরণের চেষ্টা করেও হরিনাম উচ্চারণ থেকে ব্যর্থ হয়ে হত্যার পরিকল্পনা করে। প্রোল্লাদের বোন হলিকা ভ্র²াদেবের আশীর্বাদ প্রাপ্ত হয় এবং তাকে একটি চাদর দেয়া হয়। এই চাদর গায়ে জড়ানো থাকলে কেউ তাকে ক্ষতি করতে পারবে না এমনকি আগুনেও পুড়বে না।
হিরণ্যকশিকু ঘর তৈরি করে প্রোল্লাদকে সেখানে আটকে রেখে চারপাশ দিয়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। এই সময় নারায়ন মায়া সৃষ্টি করে প্রোল্লাদকে হলিকার চাদর দিয়ে শরির ঢেকে দেয়। আগুনে সব পুড়ে শেষ হলেও রাজার হিরণ্যকশিকু দেখতে পান প্রোল্লাদ আগুনের মধ্যে অক্ষাত অবস্থায় হরিনাম জব করছে। সেই থেকে দশম দোল পূর্ণিমার রাতে বুড়ির ঘর পোড়ানো বা হলিকা উৎসব হিসেবে এই দিনটি পালিত হচ্ছে।










