জনতার খবর ডেস্ক:
রাজধানীর শের-ই বাংলা নগরের চন্দ্রিমা উদ্যান থেকে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত সরকারের জন্য আত্মঘাতী হবে বলে মনে করে বিএনপি। দলটির নেতারা বলছেন ‘স্বাধীনতার ঘোষক, সেক্টর কমান্ডার, রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সেনাপ্রধান ও রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তার মতো একজন মানুষকে অসম্মান করা মানে মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করা।’
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, সংসদ ভবন এলাকায় চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়ার কবরে তার মৃতদেহ ছিল না। তাই ওই কবরসহ সংসদ ভবনের মূল নকশার বাইরে যত স্থাপনা সব সরিয়ে ফেলার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। জবাবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হলে তা হবে সরকারের জন্য আত্মঘাতী এবং দেশের মানুষ সেটি কখনোই মানবে না।’
গতকাল শনিবার এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের মরদেহ চট্টগ্রামে কবর থেকে তুলে পোস্ট মোর্টেম করা হয়। ডা. তোফায়েল আহমেদ তার পোস্ট পোর্টম করেছিলেন এবং ২২টি বুলেট তার শরীর থেকে বের করে নিয়ে এসেছিলেন। তারপরে ব্রিগেডিয়ার আ স ম হান্নান শাহ (প্রয়াত) তার মরদেহকে সামরিক এয়ার ক্রাফটে করে কুর্মিটোলায় নিয়ে এসেছিলেন। সবাই স্বচক্ষে তা দেখেছেন। আমিও দেখিছি। এসএ বারী (উপ-প্রধানমন্ত্রী) সাহেবের প্রাইভেট সেক্রেটারি হিসেবে আমিও সেখানে উপস্থিত ছিলাম। একটা কাচের বাস্কেট ছিল, সেখান থেকে আমরা তার দেহ দেখেছি।
বিএনপি নেতারা অবশ্য মনে করেন, আজকে এই ধরনের কথাবার্তা বলার একটাই উদ্দেশ্য ইতিহাসকে বিকৃত করা। বাংলাদেশকে যে একটা ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করা হচ্ছে, সেখান থেকে মানুষের দৃষ্টিকে অন্যদিকে সরিয়ে দেওয়া। যদিও চন্দ্রিমা উদ্যানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবর নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রশ্ন তোলা বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন কিছু নয়। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরেই শুধু রাজনৈতিক বক্তৃতার বাইরেও সংসদে ও সরকারের নানা পর্যায়ে সংসদ ভবন এলাকা থেকে ওই কবর সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব উঠে আসছে গণমাধ্যমেও। তবে এবারে রাজনৈতিক মঞ্চে এ নিয়ে বড় ধরনের বিতর্কের সূত্রপাত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই সম্প্রতি বলেছেন যে, ওই কবরে জিয়াউর রহমানের মৃতদেহ ছিল না। বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের কবর সরানোর কোনো চিন্তা বিএনপি ও দেশের মানুষ গ্রহণ করবে না। এ ধরনের যদি তারা (সরকার) কোনো উদ্যোগ নেয় সেটা হবে আত্মঘাতী। এর কোনো যুক্তি থাকবে না। এদেশের মানুষ সেটা মেনে নেবে না। সরকারের যে দায়িত্ব পালনের কথা ছিল, সেটি পারেনি বলেই এ বিতর্ক তারা তুলতে চায়। তাদের মূল উদ্দেশ্য হলো বিএনপিকে রাজনীতি ও নির্বাচন থেকে দূরে রাখা।’












