ঝালকাঠি প্রতিবেদকঃ
গড়িমসি করে সময় ক্ষেপন নয়, দ্রæততম সময়ের মধ্যে জালেমদের বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, জুলাই-আগস্ট ছাত্রজনতাকে খুনের পরিকল্পনাকারী, নির্দেশদাতা ও বাস্তবায়নকারী সকলকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। এ খুনিদের বিচার বাংলাদেশের পেনালকোর্ট অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করেন তিনি। আজ সোমবার দুপুরে ঝালকাঠি পৌর মিনি স্টেডিয়ামের সামনে এক পথ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা জামায়াত ইসলামী এ সভার আয়োজন করে।
জামায়াতের এ শীর্ষ নেতা বলেন, শহীদরা কারো পারিবারিক সম্পত্তি নয়, শহীদরা এ জাতির সম্পদ। আমরা সবাই শহীদ পরিবারের সদস্য। জামায়াত ইসলামী জুলাই-আগস্টের সকল শহীদ পরিবারের প্রতি নৈতিক দায়িত্ব পালন করবে।
শহীদ সেলিম তালুকদারের কন্যা সন্তানকে দেখতে গিয়ে তিনি বলেন, আমরা শহীদ সেলিম তালুকদারের নবজাতক কন্যা সন্তানকে দেখতে এসেছি। আমরা তাঁর নাম রেখেছি সাইমা সেলিম রোজা। তাঁর বেড়ে ওঠা, বিকশিত হওয়া, শিক্ষা, চিকিৎসা ও বিয়ে পর্যন্ত আমরা তাঁর দায়িত্ব নিচ্ছি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা সবাই মিলেমিশে মানবিক বাংলাদেশ গড়বো। সেই বাংলাদেশ হবে প্রতিটি মানুষ প্রতিটি মানুষের দঃখে সাড়া দিবে, এবং প্রথম সাড়া দেওয়ার দায়িত্ব থাকবে সরকারের। সরকার জনগণকে সাথে নিয়ে একটি কল্যাণকর এবং মানবিক রাষ্ট্র গড়বে। কোরআনের ভিত্তিতে এমন একটি মানবিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি আমরা। সেই অভিযাত্রায় দেশবাসীকে পাশে পাওয়ার আহŸান জানান তিনি।
জামায়াতের আমীর বলেন, আগামী নির্বাচনে জামায়াতকে নির্বাচন করলে জামায়াত নেতাদের দুনিয়ার সম্পদ বৃদ্ধি পাবে না বরং আখেরাতের সম্পদ বাড়বে।
জেলা জামায়াতের আমীর অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে পথসভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন দলের সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসাইন হেলাল, ঝালকাঠি-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী শেখ নেয়ামুল করিম, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারী শফিকুল ইসলাম মাসুদ, বরিশাল জেলা আমীর অধ্যাপক আব্দুল জব্বার।
আজ দুপুরে হেলিকপ্টারে ঝালকাঠি শহরের পৌর মিনি স্টেডিয়ামে নামেন তিনি। এসময় জেলা জামায়াতের নেতৃবৃন্দ তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। পরে তিনি শহরের কবিরাজ বাড়ি এলাকায় শহীদ সেলিম তালুকদারের শ^শুরবাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে তাঁর নবজাতক কন্যা রোজাকে কোলে তুলে নেন। জামায়াতের আমির শিশুটির মাসহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সান্তনা দেন। পাশাপাশি শিশুটির দ্বায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, এখন থেকে শিশুটির বেড়ে ওঠা, শিক্ষার ব্যয়সহ সব খরচ বহন করবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। জাময়াত আমির সবসময় শিশুটির খোজ খবর রাখার জন্য স্থানীয় জামায়াত নেতাদের নির্দেশ দেন।










