গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার নিজামকান্দি ইউনিয়নের ফসলি গ্রামে দেয়াল দিয়ে চলাচলের পথ বন্ধ করে পাঁচটি পরিবারকে অবরুদ্ধ করেছে প্রতিপক্ষ।চলাচলের বিকল্প কোনো পথ না থাকায় পরিবারগুলোর সদস্যরা গত সাত দিন ধরে বাড়ি থেকে বের হতে পারছে না। ফলে ওইসব পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্য, অন্তঃসত্ত্বা নারী ও শিশুরা পড়েছে চরম বিপাকে। নৌকায় করে আধা কিলোমিটার পথ পেরিয়ে তাদের হাট-বাজার ও চিকিৎসার জন্য যেতে হচ্ছে।
অবরুদ্ধ পাঁচটি পরিবারের পক্ষ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক বিষয়টি তদন্ত করে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তাকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। অবরুদ্ধ পরিবারের সদস্য লালটু সরদার (৪৮) বলেন, রাস্তাটি দুই শ’ বছর ধরে চলাচলের জন্য ব্যবহার হয়ে আসছে। আমরা এখানে বাড়ি করার পর বিনা বাধায় ৩২ বছর রাস্তাটি ব্যবহার করছি। প্রতিপক্ষ ফসলি গ্রামের আসলাম শেখ, লাড্ডু শেখ ও হাসান শেখ স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে আমাদের চলাচলের একমাত্র রাস্তটি ইটের দেয়াল দিয়ে সাত দিন আগে বন্ধ করে দিয়েছে। আমাদের পাঁচ পরিবারের ৩৫ থেকে ৪০ জন সদস্য অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। এদের মধ্যে ছয় জন শিক্ষার্থী ও একজন অন্তঃসত্ত্বা এবং একাধিক বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি রয়েছেন। দীর্ঘদিন পর বিদ্যালয় খুললেও শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফলসি গ্রামের একাধিক ব্যক্তি জানান, তালতালা-ফলসি সড়কের দক্ষিণ পাশে লালটু সরদার-এর বাড়ি এলাকার লোকজনের কাছে পাল বাড়ি হিসেবে পরিচিত। ১৯৯০ সালে সরদার ও শেখ বংশ ওই বাড়ি কিনে নেয়। সেই থেকে ওই বাড়িতে বসবাস করে আসছে ওই দুই বংশ।
তাঁরা আরও জানান, তালতালা-ফলসি সড়ক থেকে বাড়িতে প্রবেশের রাস্তা বাঁশ দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বাড়ির মধ্যে সরদার বংশের পাঁচটি পরিবার। উত্তর পাশে আসলাম শেখ ইটের দেয়াল তুলেছেন। তার পাশে লাড্ডু শেখ টিন দিয়ে বন্ধ করে রেখেছে। পূর্ব পাশে ইটের দেয়াল তুলছে হাসান শেখ। উত্তর ও পূর্ব পাশ দিয়ে প্রাচীর তুলে হাঁটার পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ ও পশ্চিম পাশে পানি থাকায় যাতায়াতের কোনো ব্যবস্থা নেই।
অবরুদ্ধ পরিবারের জ্যৈষ্ঠ সদস্য ফুল জান বেগম (৭৫) বলেন, সাত দিন ধরে বাড়ি থেকে বের হতে পারি না। আগে এই বাড়ি, ও বাড়ি গিয়ে সময় কাটাতাম। রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় বাড়ির মধ্যে বসে থাকতে হচ্ছে। আমার নাতি রুপা বেগম (২২) অন্তঃসত্ত্বা। যে কোনো সময় সন্তান প্রসবের জন্য তাঁকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হতে পারে। তাই বিষয়টি নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় আছি।
এই বিষয়ে প্রতিপক্ষ লাড্ডু শেখ বলেন, বিগত ৩২ বছর ধরে আমাদের জায়গা দিয়ে চলাচল করতে দিয়েছি। এক সপ্তাহ আগে আমাদের সংগে লালটু সরদার-এর ঝগড়া হয়। তাই আমরা চলাচলের পথ বন্ধ করে দিয়েছি।
নিজামকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান জুয়েল খান বলেন, রাস্তা বন্ধের বিষয়টি নিয়ে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বসেছিলেন। কিন্তু তাঁরা সমাধান করতে পারেননি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিষয়টি আমাকে বলেছেন। আমরা এটি দ্রুত সমাধান করবো।
কাশিয়ানীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রথীন্দ্র নাথ রায় বলেন, বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যানকে মীমাংসার জন্য বলেছি। তাঁরা ব্যর্থ হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।










