গরুর মাংস উৎপাদনেও শিল্পপতিদের আগ্রাসন। যে কারণে আকাশচুম্বী মাংসের দাম। বিপদে ক্ষুদ্র-মাঝারি খামারি থেকে ভোক্তারাও। এমন অভিযোগ খাত সংশ্লিষ্টদের। তাদের দাবি, গরুর মাংসের দাম বৃদ্ধির পেছনে গোখাদ্যের অতি দামের পাশাপাশি, ব্যাংক থেকে শত কোটি টাকা ঋণ নিয়ে খামারি বনে যাওয়া বাজারে অসম প্রতিযোগিতা সৃষ্টিকারী শিল্পপতিরাও দায়ী।
২০১৪ সালে ভারত গরু রপ্তানি বন্ধ করলে, দেশে সংকট সৃষ্টি হয়। উত্তরণে পরের বছর থেকে সরকারের উৎসাহে গরুর পালন বৃদ্ধি করেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা। ফলে ২০১৫ থেকে চাহিদার তুলনায় গরুর মাংসের উৎপাদন বেড়েছে কাঙ্ক্ষিত হারে।
২০১৬-১৭ অর্থবছরে গরুর মাংসের চাহিদা ছিল ৭০ দশমিক আট লাখ মেট্রিক টন। উৎপাদন হয়েছে ৭১ লাখ মেট্রিক টন। চার বছর পর ২০২১-২২ অর্থবছরে মাংসের জোগান চাহিদাকেও ছাড়িয়ে গেছে ১৪ লাখ মেট্রিক টন বেশি। এমন বাস্তবতায় ভারতে যেখানে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ২২৫ টাকা কেজি, সেখানে বাংলাদেশে প্রায় ৮০০ টাকা।
বড় খামারের স্বপ্ন নিয়ে কয়েকটি গরু কিনে কয়েক বছর ধরে লালন পালন করছেন সাভারের এক ক্ষুদ্র খামারি। গরু পালনে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এখন খামার বন্ধ করে দেওয়ার কথা ভাবছেন তিনি।
গোখাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় ভালো নেই, মাঝারি আকারের খামারিরাও। তবে, চলমান সংকটের পেছনে করপোরেট কোম্পানির লগ্নিকারীরা বড় দায়ী বলে অভিযোগ তাদের।
একই মত, বিশ্লেষকদেরও। তারা বলছেন, বাজারে অসম প্রতিযোগিতা বন্ধ না করা গেলে, মাংসের দামে স্বস্তি ফিরবে না।
পাশাপাশি ভারত থেকে মাংস আমদানিতে ফের অনুমতি দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।












