বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অসুস্থ অবস্থায় বর্তমানে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় তাকে বিদেশে পাঠাতে বিএনপির পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে। এ নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে তেমন কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে, গত ২৩ সেপ্টেম্বর শুক্রবার আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর বিষয়ে এখন পর্যন্ত তার কাছে কোনো আবেদন আসেনি। আবেদন করলে বিষয়টি দেখা যাবে।
এ বিষয়ে ২৪ সেপ্টেম্বর রোববার সুপ্রিম কোর্টে নিজের চেম্বারে বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সাংবাদিকদের বলেন, খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর আবেদন আগেই করা আছে, নতুন করে আবেদন চাওয়াটা অমানবিক।
তিনি বলেন, বেগম জিয়া যে সমস্যায় ভুগছেন তার চিকিৎসা দেশে সম্ভব না। তার চিকিৎসা দেশের বাইরে করাতে হবে। এজন্য আবেদন নয়, তার শারীরিক অবস্থা, সময় এবং জনগণের দাবি।
কায়সার কামাল বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের পাশাপাশি বাংলাদেশ সংবিধানের ১৫ এবং ৩২ অনুযায়ী খালেদা জিয়া বিদেশে চিকিৎসায় যেতে পারবেন।
এদিকে, চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়াকে গত ২২ সেপ্টেম্বর সিসিইউ থেকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়েছে। তার আগে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্তে খালেদা জিয়াকে সিসিইউতে নেওয়া হয়েছিল।
৭৮ বছর বয়সী খালেদা জিয়া হার্টের সমস্যা, লিভার সিরোসিস ছাড়াও নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। এ ছাড়া আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, দাঁত ও চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতা রয়েছে তার। এরই মধ্যে কয়েক দফা হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন তিনি।
গত বছরের জুনে খালেদা জিয়ার এনজিওগ্রাম করা হলে তার হৃদযন্ত্রে তিনটি ব্লক ধরা পড়ে। এর একটিতে রিং পরানো হয়। সবশেষ গত ৯ আগস্ট শারীরিক অসুস্থতার কারণে আবারও হাসপাতালে ভর্তি হন খালেদা জিয়া। এরপর থেকে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের সাজা হয়। সেদিন থেকে তিনি কারাবন্দি হন। ২০২০ সালের মার্চে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে সরকার খালেদা জিয়ার দণ্ড ছয় মাসের জন্য স্থগিত করে মুক্তি দেয়। এরপর দফায় দফার তার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে।












