ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ
ঝালকাঠী সদর উপজেলার ৪নং কেওড়া ইউনিয়ন পরিষদের ১নং প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধে পরিষদের সদস্যরা অনাস্থা প্রস্তাব এনেছেন। তারা অভিযোগ করেছেন, তিনি স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে পরিষদের কাজ পরিচালনা করেন, অন্য সদস্যদের মতামত উপেক্ষা করেন এবং সরকারি প্রকল্পের তহবিল নিয়ে অনিয়ম করেন। এছাড়া, তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট কর্মকাণ্ডের অভিযোগও উঠেছে।
গত ৬ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার, কেওড়া ইউনিয়ন পরিষদের এক বিশেষ সভায় জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় উপস্থিত ১১ জন ইউপি সদস্য সর্বসম্মতিক্রমে তার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব গ্রহণ করেন। পরে অনাস্থা প্রস্তাবের অনুলিপি জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দাখিল করা হয়।
সভায় ইউপি সদস্যরা অভিযোগ করেন, জাহাঙ্গীর হোসেন পরিষদের নিয়মনীতি উপেক্ষা করে নিজের খেয়ালখুশি মতো কাজ করেন। সরকারি কোনো বরাদ্দ এলে তিনি তা অন্য সদস্যদের না জানিয়ে নিজ সিদ্ধান্তে বণ্টন করেন। এমনকি, পরিষদের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতেও তিনি স্বেচ্ছাচারী আচরণ করেন।
এক ইউপি সদস্য বলেন, “তিনি পরিষদের কোনও সদস্যের কথা শোনেন না। নিজের ইচ্ছামতো প্রকল্পের টাকা খরচ করেন। সরকারি সহায়তা প্রকল্পের (কাবিখা, কাবিটা) তহবিল নিয়ে অনিয়ম করেছেন। আমরা চাই, তাকে দ্রুত অপসারণ করা হোক।
জানা গেছে, মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তিনি কেওড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। তবে ইউপি সদস্যদের অভিযোগ, তিনি পরিষদের ক্ষমতা ব্যবহার করে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাতেন এবং রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের জন্য পরিষদের কাজে পক্ষপাত করতেন।
এক ইউপি সদস্য বলেন, আমরা পরিষদের নির্বাচিত প্রতিনিধি। কিন্তু তিনি শুধু নিজের সুবিধার কথা ভাবেন। আওয়ামী লীগের ছত্রচ্ছায়ায় থেকে তিনি পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে রাজনীতিকরণ করেছেন। তাকে অনেকবার সতর্ক করা হলেও তিনি কোনো কর্ণপাত করেননি।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, গত ৭ নভেম্বর বিপ্লব দিবসে তিনি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে গোপনে আওয়ামী লীগের কর্মীদের নিয়ে পিকনিকের আয়োজন করেছিলেন, যা পরিষদের নিয়মবহির্ভূত। একাধিক মামলা রয়েছে, যা তদন্তাধীন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ১নং প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ৫ আগস্টের পরে ঝালকাঠি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তদন্ত করে আমাকে দায়িত্ব দেন। আমি এরপর থেকে নিয়মিত অফিস করে আসছি ও জনগনের সকল সেবামূলক কাজে আংশ নিয়ে আসছি। কিন্তু আমাকে এখন নিয়মিত সভায় অংশগ্রহণ করতে দেয়া হয় না। একটি মহল আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড করছে আমাকে অপসারণ করার জন্য। আমি প্রশাসনের নিকট সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে এর সমাধান চাই।
স্থানীয় জনগণ ও ইউপি সদস্যরা দ্রুত তার অপসারণের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, প্রশাসন যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে পরিষদের কার্যক্রম ব্যাহত হবে এবং ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ বিষয়ে বলেন, আমরা অনাস্থা প্রস্তাব পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।










