ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ
ঝালকাঠি সদর উপজেলার নথুল্লাবাদ ইউনিয়নের চাকলার বাজার থেকে নলছিটি উপজেলার ভৈরবপাশা ইউনিয়নের প্রতাপ বাজার পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার সড়কে। এই সড়কে কালভার্ট নির্মান কাজ চলমান থাকলেও বিকল্প সড়ক ব্যবস্থা না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পে সড়কের মধ্যে থাকা ৭টি কালভার্টের মধ্যে ইতোমধ্যে ৬টি ভেঙে পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়েছে। তবে টেকসই বিকল্প সড়ক নির্মাণ না করেই পুরোনো কালভার্ট ভেঙে ফেলার ফলে দুই ইউনিয়নের হাজারো মানুষের চলাচল কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নামমাত্র কিছু বিকল্প পথ তৈরি করা হলেও তা কোনোভাবেই ব্যবহারযোগ্য নয়। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব পথ পানির নিচে তলিয়ে যায়, ফলে হেঁটে চলাচল করাও দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে।
ঐ সড়ক দিয়ে নিয়মিত চলাচলকারী মুদি দোকানি নুরে আলম জমাদ্দার বলেন, ‘ভাঙা কালভার্টের কংক্রিট আর মাটি দিয়ে যেভাবে অস্থায়ী রাস্তা বানানো হয়েছে, তা ১০ মিনিটের বৃষ্টিতেই ডুবে যায়। তখন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়ে।’
আরেক পথচারী আইযুব আলী মুন্সি জানান, ‘যে বিকল্প রাস্তা করা হয়েছে তা একেবারেই অনুপযোগী। হেঁটে কোনোভাবে যাওয়া গেলেও কোনো যানবাহন নিয়ে পার হওয়া যায় না। কয়েকদিন আগের বৃষ্টির কাদা এখনো শুকায়নি।’
এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন দুই ইউনিয়নের সহস্রাধিক মানুষ চলাচল করেন। পাশাপাশি দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও এই পথে যাতায়াত করে। বর্তমান পরিস্থিতিতে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, কাজের অগ্রগতি অত্যন্ত ধীরগতির। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে এই দুর্ভোগ সহ্য করতে হচ্ছে তাদের।
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স বরেন্য এন্টারপ্রাইজ’ জানায়, বিকল্প সড়ক নির্মাণের জন্য আলাদা কোনো বরাদ্দ না থাকায় টেকসই ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।’
তবে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই কাজ শেষ করে সড়কটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন ঠিকাদার সালেহ হাসান।
ঝালকাঠি সদর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী আবদুল্লাহ হেল বাকী বিল্লাহ বলেন, ‘কালভার্ট নির্মাণের ক্ষেত্রে বিকল্প সড়কের জন্য বরাদ্দ খুবই সীমিত থাকে। তাই টেকসই বিকল্প পথ তৈরি করা সম্ভব হয়নি। তবে জনদুর্ভোগ কমাতে দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’











