কাঠালিয়া প্রতিনিধি:
ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার শৌলজালিয়া ইউনিয়নের কানাইপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন খালের উপরের পুল ভেঙ্গে যাওয়ায় পাঁচ গ্রামের যোগাযোগ বিচ্ছিন। ফলে শতশত মানুষ চরম দূর্ভোগে পোহাচ্ছেন । বিকল্প কোন পথ না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভাঙ্গা পুলের উপরে সুপারি গাছের সাঁকো দিয়ে লোকজন পারাপার হচ্ছে। এতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে দূর্ঘটনা শঙ্কা। পুল সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এলাকাবাসী একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দিলেও অধ্যবদি কোন ব্যবাস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ।
পুলে মাঝের অংশ ভেঙ্গে খালে পড়ে গেছে। এতে কানাইপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মধ্য কৈখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বিনাপানি কেবিকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ কানাইপুর, শিবপুর, দক্ষিণ কৈখালী, দক্ষিণ চেঁচরী ও বিনাপানি গ্রামের শতশত মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
এলাকাবাসীরা জানান, কানাইপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবণের কাজের জন্য মালামাল ও ডালাই মেশিন এ পুল দিয়ে পারাপার করতে গিয়ে পুলটি ভেঙ্গে যায়। নলছিটির এক ঠিকাদার ওই বিদ্যালয়ের কাজ করেছেন। এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে ক্ষতিগ্রস্ত পুলটি ঠিক করে দেওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত মেরামত করা হয়নি।
ভুূক্তভোগীরা বলেন, পুলটি ভেঙ্গে যাওয়ায় আমাদের চরম দূর্ভোগ হচ্ছে, জরুরী চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে যেতে পাড়ছে না রোগীরা , মালামাল নিয়ে সাঁকো পের হতে অনেক কষ্ট হয়। এলাকাবাসী দ্রুত পুলটি মেরামতের দাবি জানান।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সেলিম তালুকদার জানান, এলজিইডির অর্থায়নে পুলটি নির্মাণ করা হয়েছিল। কানাইপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভবণের কাজের মালামাল নেয়ার সময় পুলটি ভেঙ্গে খালে পড়ে যায় । বিদ্যালয়ের ঠিকাদারের পুলটি সংস্কার করে দেওয়া কথা ছিল। এ ব্যাপারে এলাকাবাসীর স্বাক্ষর নিয়ে উপজেলা এলজিইডি অফিসে অভিযোগ করেছি কিন্ত কোন ফল পাইনি।
শৌলজালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. মাহমুদ হোসেন রিপন জানান, ওই পুলটি সংস্কারের জন্য এলজিইডির প্রকৌশলীকে বলেছি তারা উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নেওয়ার কথা বলেছেন।
উপজেলা প্রকৌশলী (এজিইডি) সাদ জাগলুল ফারুক জানান, আমি এখানে যোগদানের আগে পুলটি ভেঙ্গে গেছে। আমি সরজমিনে গিয়ে দেখবো, যদি ঠিকাদার ভেঙ্গে থাকে অবশ্যই তিনি মেরামতের ব্যবস্থা করে দিবেন। তবে পুলটি আমরা অন্য প্রকল্প থেকে করার জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুফল চন্দ্র গোলদার জানান, স্কুলের কাজের সময় পুলটি ভেঙ্গে যায়। পরে আমি তাদের ডেকে ছিলাম। ইঞ্জিনিয়ার সাহেবকে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল, ঠিকাদারকে ক্ষতিগ্রস্ত পুলটি নিজ খরচে মেরামত করার জন্য। ঠিকাদার যদি সেটি না করে থাকে তাহলে তার জামানত আটকে দেয়া হবে।










