কাঠালিয়া প্রতিনিধিঃ
ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার আওরাবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ মিঠু সিকদার সহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন কাঠালিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার ইমরান বিন ইসলাম।
আওরাবুনিয়া ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা দীপক কুমার হাওলাদারকে ১নং আসামী করে চেয়ারম্যান মোঃ মিঠু সিকদারকে ২নং ও ১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস মোঃ হেলাল উদ্দিনকে ৩ নং আসামী করে এ মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাঠালিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ নাসির উদ্দিন সরকার। তিনি জানান, তদন্ত পূর্বক আসামীদের গ্রেপ্তার অভিযান অব্যহত রয়েছে।
এ ব্যাপারে আওরাবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ মিঠু সিকদার জানান, “আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। এটি নির্বাচনী প্রতিহিংসা মূলক একটি মামলা। এ মামলায় আমি বিজয়ী হবো ইনশাআল্লাহ”। তিনি আরো জানান ১০ কেজির ৬ প্যাকেট ধানের বীজ একজন চেয়ারম্যান কি কারনে চুরি করবেন ? এ ধানের বীজের দামই বা কত ? আমি নিরপরাধ, এটা নির্বাচনী ষড়যন্ত্র”।
উল্লেখ্য যে, ০৪ জুন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আওরাবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের একটি কক্ষ থেকে ১০ কেজি ওজনের ৬ প্যাকেট ব্রি-৪৮ ধানের বীজ ও আওরাবুনিয়া ইউনিয়নের যুবলীগ নেতা দিপক কুমার হাওলদারের পশ্চিম ছিটকী (সাতানি বাজার) এর ভাড়া বাসা থেকে এমওপি ৫ বস্তা ও ডিএপি ২ বস্তা রাসায়নিক সার এবং ব্রি-৯৮ ধান দুই প্যাকেট, ব্রি-৪৮ ধান চার প্যাকেট উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মালামাল থানা হেফাজতে রয়েছে।
আওরাবুনিয়া ইউনিয়নের দায়িত্বরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মুরাদ হোসেন জানান, “উদ্ধারকৃত মালামাল এপ্রিল মাসে কৃষকদের মাঝে বিতরণকৃত কৃষি প্রণোদনার সার ও বীজ। এ গুলো আমরা কৃষকদের কাছে বিতরণ করেছি। তবে কি ভাবে এখানে এলো এবং পাওয়া গেলো তা আমাদের জানা নেই”।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান বিন ইসলাম জানান, “খবর পেয়ে ইউএনও স্যার সহ আমরা ঘটনা স্থানে যাই। আওরাবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের একটি কক্ষ থেকে ১০ কেজি ওজনের ৬ প্যাকেট ব্রি-৪৮ ধানের বীজ এবং ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন সাতানি বাজারের দিপক কুমার হাওলাদারের ভাড়া বাসা থেকে ৫০ কেজি ওজনের সাত বস্তা রাসায়নিক সার ও ৬ প্যাকেট ধানের বীজ উদ্ধার করে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এগুলো অবৈধ মালামাল হিসেবে জব্দ করা হয়েছে।
অপরদিকে ১নং আসামী যুবলীগ নেতা দিপক কুমার হাওলাদার জানান, “আওরাবুনিয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ হেলাল উদ্দিন সার ও বীজ আমার কাছে রেখে গেছেন। তখন তিনি আমাকে বলেছেন কয়েকজন কৃষকের এই মালামাল। দুই-তিন দিনের মধ্যে তাদের মাঝে বিতরণ করবো”। এরই মধ্যে এ সংবাদ ইউএনও স্যারকে কে বা কাহারা জানিয়ে দেয় এবং স্যার এসে মালামাল নিয়ে যায়।
৩নং আসামী আওরাবুনিয়া ইউনিয়নের ০১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ হেলাল উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করতে না পারায় তার মতামত জানতে পারিনি।










