আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে তাদের ফুলের মালা দিয়ে স্বাগত জানানো হয়েছে আফগানিস্তানের জাতীয় নারী ফুটবল দলের সদস্যরা সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে পালিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। ১৪ সেপ্টেম্বর বুধবার বার্তাস সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, কট্টরপন্থী তালেবানরা দেশটির ক্ষমতা দখলের এক মাস পর বোরকা পরিহিত অবস্থায় দেশ ছাড়েন তারা।
দলটির একটি সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, জুনিয়র খেলোয়াড়দের দলটি এবং তাদের কোচ ও পরিবারের সদস্যরা গত মাসে দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করেছিল কিন্তু কাবুল বিমানবন্দরে ভয়াবহ বোমা হামলায় তখন যেতে পারেনি।
বিশ্বব্যাপী উন্নয়ন সংস্থা এনজিও ফুটবল ফর পিসের রাষ্ট্রদূত সরদার নাভিদ হায়দার বলেন, “আমি ইংল্যান্ডভিত্তিক অন্য একটি এনজিও থেকে তাদের উদ্ধার করার অনুরোধ পেয়েছি, তাই আমি প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে চিঠি লিখেছিলাম আর তাই তাদের পাকিস্তানে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে।”
মঙ্গলবার (১৩ সেপ্টেম্বর) ৭৫ জনের একটি দল উত্তর সীমান্ত অতিক্রম করে দক্ষিণে লাহোর শহরে যায়, যেখানে তাদের ফুলের মালা দিয়ে স্বাগত জানানো হয়।
তিনি জানান, “অনূর্ধ্ব-১৪, অনূর্ধ্ব-১৬ এবং অনূর্ধ্ব-১৮ দলের হয়ে খেলা খেলোয়াড়রা সীমান্ত অতিক্রম করে। এ সময় তারা বোরকা পরিহিত থাকলেও পরে মাথায় স্কার্ফ পরে নেয়।
আফগানিস্তানের নতুন শাসক তালেবান এর আগেও তাদের প্রথম শাসনের সময় সকল খেলাধুলায় নারীদের নিষিদ্ধ করেছিল, তারা এবারও নারী ও মেয়েদের খেলাধুলায় নিষেধাজ্ঞা জারি করার ইঙ্গিত দিয়েছিল।
তালেবানের এক শীর্ষ কর্মকর্তা অস্ট্রেলিয়ান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, নারীদের খেলাধুলা করা অপরিহার্য কিছু নয়।
কিন্তু মঙ্গলবার আফগানিস্তানের ক্রীড়া বিষয়ক নতুন মহাপরিচালক বশির আহমদ রুস্তমজাই বলেন, শীর্ষ পর্যায়ের তালেবান নেতারা এখনও এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
এদিকে, পাকিস্তানের ফেডারেল তথ্য মন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী বুধবার ভোরে এক টুইটে নারী খেলোয়াড়দের স্বাগত জানিয়েছেন।
টুইটে তিনি বলেন, আমরা আফগানিস্তান নারী ফুটবল দলকে স্বাগত জানাই তারা আফগানিস্তান থেকে তোর্খাম বর্ডারে এসেছিল। খেলোয়াড়দের বৈধ আফগানিস্তান পাসপোর্ট, পাকিস্তান ভিসা ছিল এবং পিএফএফ-এর নুমান নাদিম তাদের স্বাগত জানিয়েছেন।
তালেবানরা ক্ষমতা দখলের পর থেকেই হাজার হাজার আফগান নাগরিক হামলা বা দমনের ভয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে।












