ঢাকায় বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও পোশাক কারখানার মালিকানার পাশাপাশি ঠাকুরগাঁওয়ে তার কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তি রয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) তদন্তে বেরিয়ে এসেছে ডাকাতির মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা পুলিশ উপপরিদর্শক আকসাদুদ-জামানের বিপুল সম্পদের তথ্য। অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) কর্মরত এ পুলিশ কর্মকর্তা ডাকাতি করে এসব সম্পদ গড়ে তুলেছেন বলে জানা গেছে।
রাজধানী ঢাকায় বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও পোশাক কারখানার মালিকানা রয়েছে তার। এছাড়াও ঠাকুরগাঁও শহরে এবং গ্রামের বাড়িতে তার কয়েক কোটি টাকার জমি রয়েছে। জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই বছর আগে ৮০ লাখ টাকায় রাজধানীর সিপাহীবাগে একটি ফ্ল্যাট কিনে নেন আকসাদুদ। ৬-৭ বছর ধরে তিনি ব্যক্তিগত গাড়িতে চলতেন। ঢাকায় তার মালিকানাধীন তৈরি পোশাক কারখানা রয়েছে।
জানা যায়, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা আকসাদুদ ১৯৯৫ সালের ২৯ আগস্ট কনস্টেবল হিসেবে পুলিশে যোগ দেন। ২০০২ সালে তিনি এএসআই হন। ২০১০ সালের ২৬ অক্টোবরে তিনি উপপরিদর্শক (এসআই) পদে পদোন্নতি পাওয়ার পর অঢেল সম্পদের মালিক হতে থাকেন। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে সিআইডিতে বদলি হয় তার।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, এসআই পদে পদোন্নতি পাওয়ার পর আকসাদুদ বালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের পাশে দুই একর জমি কেনেন। দুই বছর আগে সেখানে আরও ১৬ বিঘা জমি কেনেন। এই জমির বাজারদর দুই কোটি টাকা। তাছাড়া, ঠাকুরগাঁও শহরের তাঁতীপাড়ায় তার পৌনে দুই কোটি টাকা মূল্যের জমি রয়েছে বলে জানা যায়। সম্প্রতি বালিয়ায় তিনি আরও ৩৭ শতক জমি কেনেন।
গত বছরের ১৯ অক্টোবর সকালে বিমানবন্দর সড়কের কাওলায় দুবাইপ্রবাসী রোমান মিয়া ও তার ফুফাতো ভাই মনির হোসেনকে “ডিবি” পরিচয়ে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে মারধরের পর সঙ্গে থাকা পাঁচ হাজার মার্কিন ডলার, দুই হাজার দিরহাম, মোবাইল ফোন, কাপড়ভর্তি লাগেজসহ মালামাল লুটে নিয়ে তাদেরকে রাস্তার পাশে জঙ্গলে ফেলে দেওয়া হয়।
পরে ওই ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় করা মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায় ডিবি। ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ ও প্রযুক্তির সহায়তায় কয়েক মাস আগে ছয় ডাকাতকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারদের মধ্যে হাসান রাজার (চাকরিচ্যুত সেনাসদস্য) আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সিআইডির এসআই আকসাদুদের নাম আসে।
পরে ডিবি পুলিশের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত ১৮ আগস্ট তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে সিআইডি। পরে তাকে চাকরিচ্যুত করার কথা জানিয়েছে মামলার তদন্তকারী সংস্থা ডিবি।
তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তার ভাষ্যমতে, রিমান্ডে আকসাদুদের ৬ সহযোগী জিজ্ঞাসাবাদে ডিবিকে জানান, তিন বছর আগে আকসাদুদের সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়। তখন থেকে আকসাদুদের নেতৃত্ব তারা ডাকাতিসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। কয়েক মাস আগে আকসাদুদের ছয় সহযোগী জামিনে মুক্ত হয়েছেন। তারা হলেন চাকরিচ্যুত সেনাসদস্য হাসান রাজা, মোশাররফ হোসেন, সেলিম মোল্লা, রিপন মোড়ল, আমির হোসেন তালুকদার (পুলিশ সোর্স) ও রিজু মিয়া সিকদার। এদের মধ্যে হাসান রাজার বিরুদ্ধে ৩টি ডাকাতির মামলা, সেলিম মোল্লার বিরুদ্ধে টি ডাকাতির মামলা রয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির উপপরিদর্শক মাকসুদুল ইসলাম বলেন, আকসাদুদ ডাকাতিতে সিআইডির গাড়ি ব্যবহার করতেন। প্রবাসীর অর্থ ডাকাতির ঘটনায় আকসাদুদসহ এখন পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চক্রের আরেক সদস্য পলাতক। মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে। শিগগিরই এই মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।
গত ৪ সেপ্টেম্বর মো. আকসাদুদ-জামানের স্ত্রীর সঙ্গে এক ব্যক্তির ১ কোটি ২৮ লাখ ও ১৪ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেনের অডিও ছড়িয়ে পড়লে তা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। ওই দিন রাতেই রংপুরের মিঠাপুকুর থেকে আকসাদুদকে গ্রেপ্তার করে ডিবি।
তাহমিনার দাবি, অপর প্রান্তের কণ্ঠটি ডিবির উত্তরা বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার কায়সার রিজভী কোরায়েশির। তার স্বামীকে ডাকাতি মামলা থেকে অব্যাহতি দিতে তিনি ওই টাকা ডিবি কর্মকর্তাকে ঘুষ দিয়েছিলেন। যদিও কায়সার রিজভী কোরায়েশী ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) এ কে এম হাফিজ আক্তার জানান, টাকা লেনদেনের বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
এছাড়া, মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট ডিবি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে জানা যায়, আকসাদুদ ডাকাতির পাশাপাশি বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। তিনি ২০১৩ সালে ডিএমপিতে কর্মরত থাকাকালে মতিঝিল অঞ্চলের একজন সহকারী পুলিশ কমিশনারকে মাথায় অস্ত্র ঠেকান। তাছাড়া, কর্তব্যরত সময়ে আরেকবার শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে দুবার বিভাগীয় শাস্তি পেয়েছিলেন আকসাদুদ।
সূত্রঃ ঢাকা ট্রিবিউন।












