আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ তাইওয়ানের ভূখণ্ডে চীন আক্রমণ করলে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে সহায়তা করবে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তাইওয়ানকে রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র অঙ্গীকারবদ্ধ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ২১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা নিয়ে আয়োজিত মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন-এর এক অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।
শুক্রবার বিবিসি’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, তারা বেশি শক্তিশালী হয়ে যাচ্ছে ভেবে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। কারণ, ‘চীন, রাশিয়া ও বাকি বিশ্ব জানে, বিশ্বের ইতিহাসে আমাদের সেনাবাহিনীই সবচেয়ে শক্তিশালী।’
সিএনএন-এর উপস্থাপক অ্যান্ডারসন কুপার বাইডেন-এর কাছে জানতে চান, চীন আক্রমণ করলে যুক্তরাষ্ট্র কি তাইওয়ানের সুরক্ষায় এগিয়ে যাবে। বাইডেন জবাব দেন, ‘হ্যাঁ। এটা করার জন্য আমাদের প্রতিশ্রুতি রয়েছে।’
তবে হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র জানান, এবিষয়ে নীতিগত কোনো বিশেষ পরিবর্তন হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী তাইওয়ানকেই নিজের জন্য প্রথমে রুখে দাঁড়াতে হবে। মার্কিন সংবাদ মাধ্যমকে তিনি জানান, তাইওয়ানের সংগে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আইন আছে, সে অনুযায়ীই দেশটির পাশে থাকবে ওয়াশিংটন। এজন্য মার্কিন নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না।
জানা যাচ্ছে, তাইওয়ানের সংগে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। কিন্তু ‘তাইওয়ান সম্পর্ক আইনের’ অংশ হিসেবে তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রি করে করে যুক্তরাষ্ট্র। সেখানে বলা হয়েছে, দ্বীপটিকে আত্মরক্ষায় সহযোগিতা করবে ওয়াশিংটন।
এদিকে বাইডেনের এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বেইজিং। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চীনের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে সমঝোতার কোনো জায়গা নেই। শুক্রবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তাইওয়ানের স্বাধীনতার সমর্থকদের কোনো ভুল সংকেত পাঠানো বন্ধ করতে আহ্বান জানিয়েছে।
বেইজিংয়ে এক নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াং ওয়েনবিন বলেন, চীনের মূল স্বার্থের ক্ষেত্রে ছাড়ের কোনো জায়গা নেই।
চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড মনে করে। তাইওয়ান দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে দাবি করে আসছে। চলমান উত্তেজনার জন্য বেইজিংকে দোষারোপ করে আসছে তাইওয়ান। অন্যদিকে তাইওয়ানের সংগে উত্তেজনা বৃদ্ধির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করছে চীন।












